ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বগুড়ায় ডিবি হাজতে হত্যা মামলার আসামির রহস্যজনক মৃত্যু

বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নিহতের নাম আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০), তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। গত ২৯ জুন দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ স্বীকার করেছেন যে, গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় তিনি আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করেন। এরপর সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বিলের মধ্যে ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে নওগাঁয় চলে যান। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সেখানে অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ আরও জানায়, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও তিনি বের না হলে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা মতি মুন্সি জানিয়েছেন, আসাদ উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘ দিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমি মাদক সম্রাট নই, ষড়যন্ত্রের শিকার’—সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

বগুড়ায় ডিবি হাজতে হত্যা মামলার আসামির রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নিহতের নাম আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০), তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। গত ২৯ জুন দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ স্বীকার করেছেন যে, গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় তিনি আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করেন। এরপর সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বিলের মধ্যে ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে নওগাঁয় চলে যান। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সেখানে অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ আরও জানায়, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও তিনি বের না হলে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা মতি মুন্সি জানিয়েছেন, আসাদ উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘ দিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।