ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গুচ্ছের ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি

দেশজুড়ে চলমান চরম দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়া বিবেচনা করে গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা আরও একদফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গুচ্ছ ভর্তি কমিটির নেওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত ও দুর্যোগগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিশেষ সুযোগ পাবেন। ভর্তি কমিটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গুচ্ছভুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বমোট ৪২০টি আসন সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে।

গত শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলবেলা গুচ্ছ ভর্তি কমিটির এক জরুরি ও বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়, যেখানে এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়। গুচ্ছ পরীক্ষা কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভাটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে (অনলাইন) অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় দেশের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, দেশজুড়ে চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই নির্দিষ্ট ও যথাসময়ে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বিপুলসংখ্যক আসন খালি পড়ে রয়েছে। বর্তমানে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে মোট ৪২০টি আসন খালি রয়েছে, তার সিংহভাগই মূলত এই দুটি উপকূলীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বাস্তব ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভর্তির সময়সীমা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।

এদিকে গুচ্ছের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আসন পরিস্থিতি ও ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত সর্বমোট ৩৬টি আসন সম্পূর্ণ খালি রয়েছে। এই খালি থাকা আসনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মধ্যে ৩৫টি আসন মেধাভিত্তিক (মেরিট) এবং বাকি ১টি আসন কোটাভিত্তিক কোটার অন্তর্গত। গুচ্ছ ভর্তি কমিটির নতুন এই জরুরি নির্দেশনার ফলে প্রার্থীরা এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ফের হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গুচ্ছের ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ১২:০০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান চরম দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়া বিবেচনা করে গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা আরও একদফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গুচ্ছ ভর্তি কমিটির নেওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত ও দুর্যোগগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিশেষ সুযোগ পাবেন। ভর্তি কমিটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গুচ্ছভুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বমোট ৪২০টি আসন সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে।

গত শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলবেলা গুচ্ছ ভর্তি কমিটির এক জরুরি ও বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়, যেখানে এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়। গুচ্ছ পরীক্ষা কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভাটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে (অনলাইন) অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় দেশের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, দেশজুড়ে চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই নির্দিষ্ট ও যথাসময়ে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বিপুলসংখ্যক আসন খালি পড়ে রয়েছে। বর্তমানে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে মোট ৪২০টি আসন খালি রয়েছে, তার সিংহভাগই মূলত এই দুটি উপকূলীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বাস্তব ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভর্তির সময়সীমা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।

এদিকে গুচ্ছের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আসন পরিস্থিতি ও ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত সর্বমোট ৩৬টি আসন সম্পূর্ণ খালি রয়েছে। এই খালি থাকা আসনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মধ্যে ৩৫টি আসন মেধাভিত্তিক (মেরিট) এবং বাকি ১টি আসন কোটাভিত্তিক কোটার অন্তর্গত। গুচ্ছ ভর্তি কমিটির নতুন এই জরুরি নির্দেশনার ফলে প্রার্থীরা এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবেন।