ঢাকা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি: রাবি ক্যাম্পাসে রাতজাগা ফুটবল উৎসবের স্মৃতি

চার বছর ধরে প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন শেষের পথে, আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। তবে এই বিশ্বকাপ শুধু কোনো দলের জয়-পরাজয় নয়, বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছে বন্ধুত্বের গল্প, তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি এবং উৎসবমুখর এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাত নামলেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা পরিবেশ বদলে যেত। হলের টিভি রুমে, বিভাগের করিডোরে, আবাসিক মেসগুলোতে বা বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, হাতে পতাকা এবং মুখে স্লোগান নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন তারা। খেলা শেষে কেউ উল্লাসে ফেটে পড়তেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে ফিরে যেতেন নিজের কক্ষে। তবে এই জয়-পরাজয়ের বাইরেও ছিল বন্ধুত্বের এক অন্যরকম মেলবন্ধন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বকাপ দেখা অনেক শিক্ষার্থী বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মধ্যরাতের খেলা দেখার এই নতুন অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ। খেলা শুরুর আগে চা-কফির আড্ডা, স্কোর নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী, এবং খেলা শেষে জয়-পরাজয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা — সবকিছু মিলিয়ে এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ক্যাম্পাসে ফুটবল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা ছিল কেবল মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ইংল্যান্ড বা অন্য দলের সমর্থকদের মধ্যে প্রাণবন্ত তর্ক-বিতর্ক, বাজি ধরা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার খুনসুটি চলত। তবে খেলা শেষ হলেই তারা আবার একসাথে বসে চা খেতেন, ক্লাস করতেন এবং আড্ডা দিতেন। ফুটবল তাদের বিভক্ত করেনি, বরং আরও কাছাকাছি এনেছে।

যেসব দলের সমর্থকেরা ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন, তাদের কাছে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও তারা খেলা দেখা বন্ধ করেননি। প্রিয় দল না থাকলেও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অনেকেই এখনো রাত জেগে ম্যাচ দেখছেন। অন্যদিকে, ফাইনালে ওঠা দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। শেষ ম্যাচ ঘিরে চলছে নানা পরিকল্পনা, কোথায় বসে খেলা দেখা হবে এবং কীভাবে উদযাপন করা হবে—এসব নিয়েই তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ নেইমারকে উৎসর্গ করলেন স্প্যানিশ তারকা নিকো উইলিয়ামস

বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি: রাবি ক্যাম্পাসে রাতজাগা ফুটবল উৎসবের স্মৃতি

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চার বছর ধরে প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন শেষের পথে, আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। তবে এই বিশ্বকাপ শুধু কোনো দলের জয়-পরাজয় নয়, বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছে বন্ধুত্বের গল্প, তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি এবং উৎসবমুখর এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাত নামলেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা পরিবেশ বদলে যেত। হলের টিভি রুমে, বিভাগের করিডোরে, আবাসিক মেসগুলোতে বা বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, হাতে পতাকা এবং মুখে স্লোগান নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন তারা। খেলা শেষে কেউ উল্লাসে ফেটে পড়তেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে ফিরে যেতেন নিজের কক্ষে। তবে এই জয়-পরাজয়ের বাইরেও ছিল বন্ধুত্বের এক অন্যরকম মেলবন্ধন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বকাপ দেখা অনেক শিক্ষার্থী বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মধ্যরাতের খেলা দেখার এই নতুন অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ। খেলা শুরুর আগে চা-কফির আড্ডা, স্কোর নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী, এবং খেলা শেষে জয়-পরাজয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা — সবকিছু মিলিয়ে এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ক্যাম্পাসে ফুটবল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা ছিল কেবল মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ইংল্যান্ড বা অন্য দলের সমর্থকদের মধ্যে প্রাণবন্ত তর্ক-বিতর্ক, বাজি ধরা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার খুনসুটি চলত। তবে খেলা শেষ হলেই তারা আবার একসাথে বসে চা খেতেন, ক্লাস করতেন এবং আড্ডা দিতেন। ফুটবল তাদের বিভক্ত করেনি, বরং আরও কাছাকাছি এনেছে।

যেসব দলের সমর্থকেরা ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন, তাদের কাছে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও তারা খেলা দেখা বন্ধ করেননি। প্রিয় দল না থাকলেও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অনেকেই এখনো রাত জেগে ম্যাচ দেখছেন। অন্যদিকে, ফাইনালে ওঠা দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। শেষ ম্যাচ ঘিরে চলছে নানা পরিকল্পনা, কোথায় বসে খেলা দেখা হবে এবং কীভাবে উদযাপন করা হবে—এসব নিয়েই তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।