ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল: ডাগআউটের দুই ভিন্ন দর্শনের কোচ

আজকের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি কেবল ১১ জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়, এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ। আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি বিশ্বাস করেন, ফুটবল নদীর স্রোতের মতো; তাকে বেঁধে রাখা যায় না, খেলোয়াড়দের নিজস্ব মুহূর্ত তৈরির স্বাধীনতা দিতে হয়। অন্যদিকে, স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, নদীর মতো ফুটবলেরও বাঁধ দরকার; নিয়ন্ত্রণহীন স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তাই প্রতিটি পদক্ষেপ একটি নির্দিষ্ট ব্যাকরণ মেনে চলা উচিত।

লিওনেল স্কালোনিকে দেখলে মনে হয় না তিনি মাঠের বাইরে থেকে প্রতিটি চাল নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তিনি যেন একজন পরিচালক, যিনি শুধু গল্পটা বুঝিয়ে দেন এবং মঞ্চ ছেড়ে দেন শিল্পীদের হাতে। এই আর্জেন্টিনা একেক ম্যাচে একেক রকম খেলে – কখনো বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে, কখনো বা হঠাৎ পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কখনো তিন ডিফেন্ডার, কখনো চার ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলে। স্কালোনির কাছে কোনো ফরমেশন বা কৌশল চিরস্থায়ী নয়, স্থায়ী শুধু পরিস্থিতি বুঝে বদলে যাওয়ার সাহস।

সম্ভবত এই কারণেই লিওনেল মেসি তার অধীনে কখনো বন্দি হয়ে খেলেননি। স্কালোনি মেসিকে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে দাঁড়াতে বলেননি, বরং পুরো দলকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে মেসি যেখানে দাঁড়ান, সেখানেই ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়। দলের প্রয়োজনে পারদেসের মতো খেলোয়াড়দের পরামর্শও তিনি সাদরে গ্রহণ করেন। এই বিশ্বাসই আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমা এনে দিয়েছে। এখন তারা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনকে দেখলে মনে হয়, কোনো দক্ষ স্থপতি ইটের পর ইট বসিয়ে একটি নিখুঁত স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সেখানে একটি ইটও যদি নিজের জায়গা ছেড়ে নড়ে যায়, তবে পুরো কাঠামো কেঁপে উঠতে পারে। তার দল প্রতিটি পজিশন, প্রতিটি পাস ও মুভমেন্ট নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করে খেলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও হামলা: শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ ২১ গ্রেপ্তার

বিশ্বকাপ ফাইনাল: ডাগআউটের দুই ভিন্ন দর্শনের কোচ

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আজকের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি কেবল ১১ জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়, এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ। আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি বিশ্বাস করেন, ফুটবল নদীর স্রোতের মতো; তাকে বেঁধে রাখা যায় না, খেলোয়াড়দের নিজস্ব মুহূর্ত তৈরির স্বাধীনতা দিতে হয়। অন্যদিকে, স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, নদীর মতো ফুটবলেরও বাঁধ দরকার; নিয়ন্ত্রণহীন স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তাই প্রতিটি পদক্ষেপ একটি নির্দিষ্ট ব্যাকরণ মেনে চলা উচিত।

লিওনেল স্কালোনিকে দেখলে মনে হয় না তিনি মাঠের বাইরে থেকে প্রতিটি চাল নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তিনি যেন একজন পরিচালক, যিনি শুধু গল্পটা বুঝিয়ে দেন এবং মঞ্চ ছেড়ে দেন শিল্পীদের হাতে। এই আর্জেন্টিনা একেক ম্যাচে একেক রকম খেলে – কখনো বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে, কখনো বা হঠাৎ পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কখনো তিন ডিফেন্ডার, কখনো চার ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলে। স্কালোনির কাছে কোনো ফরমেশন বা কৌশল চিরস্থায়ী নয়, স্থায়ী শুধু পরিস্থিতি বুঝে বদলে যাওয়ার সাহস।

সম্ভবত এই কারণেই লিওনেল মেসি তার অধীনে কখনো বন্দি হয়ে খেলেননি। স্কালোনি মেসিকে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে দাঁড়াতে বলেননি, বরং পুরো দলকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে মেসি যেখানে দাঁড়ান, সেখানেই ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়। দলের প্রয়োজনে পারদেসের মতো খেলোয়াড়দের পরামর্শও তিনি সাদরে গ্রহণ করেন। এই বিশ্বাসই আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমা এনে দিয়েছে। এখন তারা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

অন্যদিকে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনকে দেখলে মনে হয়, কোনো দক্ষ স্থপতি ইটের পর ইট বসিয়ে একটি নিখুঁত স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সেখানে একটি ইটও যদি নিজের জায়গা ছেড়ে নড়ে যায়, তবে পুরো কাঠামো কেঁপে উঠতে পারে। তার দল প্রতিটি পজিশন, প্রতিটি পাস ও মুভমেন্ট নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করে খেলে।