বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এই স্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে ইংলিশরা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা অবস্থান নিশ্চিত করল। ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা এই ম্যাচে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড ছিল পুরোপুরি আধিপত্যবিস্তারকারী। ডেকলান রাইস, এজরি কনসা এবং বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। অন্যদিকে, প্রথমার্ধে ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা অনেকটাই এলোমেলো ও ছন্দহীন ফুটবল উপহার দেয়।
সেমিফাইনালে হারের পর উভয় দলই তাদের প্রথম একাদশে সাতটি করে পরিবর্তন এনেছিল। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ, যিনি তার ১৪ বছরের দায়িত্বের শেষ ম্যাচে খেলছিলেন, বিরতির পর উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলাসহ একসঙ্গে চারজন বদলি খেলোয়াড় নামান।
বিরতির মাত্র তিন মিনিট পরই ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। মাইকেল অলিসের বাড়ানো বল থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে এক স্পর্শে গোল করে ব্যবধান কমান। এর ছয় মিনিট পর এমবাপ্পের নিখুঁত পাস থেকে বারকোলা আরও একটি গোল করেন। এরপর এমবাপ্পে নিজেই চলতি আসরে তার দশম গোল করে ব্যবধান আরও কমিয়ে আনেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২২ গোল নিয়ে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের নাম লেখান।
বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ সাতটি গোল করানোর নতুন কীর্তি গড়া অলিস সমতাসূচক গোল করার দারুণ সুযোগ পেলেও কাছ থেকে শট বাইরে পাঠিয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করেন।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও ইংল্যান্ডের হাতে আসে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ঢুকে পড়েন জেড স্পেন্স। তাকে ফাউল করায় রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লেখান।
তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। উসমান দেম্বেলে বাঁ পায়ের দারুণ শটে ফ্রান্সের হয়ে আরেকটি গোল শোধ করেন। কিন্তু শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ডই। বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহ্যাম প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে কাছ থেকে গোল করে ৬-৪ ব্যবধানের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















