ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মানি লন্ডারিং মামলায় রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র রিমান্ডে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায়, সুশান্ত অধিকারী ও বাসুদেব গুহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানিতে অংশ নেন। তারা আদালতকে বলেন, অভিযোগে মানি লন্ডারিংয়ের একটি লাইনও নেই। হরিদাস চন্দ্র একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, যিনি মন্দির পরিচালনা করেন এবং ভক্তদের কাছ থেকে মন্দিরের জন্য অর্থ গ্রহণ করেন। এতে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো বিষয় নেই।

আদালতের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র নিজেও বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নাই।’ তিনি আরও বলেন, ভক্তদের দেওয়া এই টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করা হয়, তবে তা খতিয়ে দেখা হোক। বিচারক এই টাকা ভক্তদের দেওয়া কি না জানতে চাইলে তিনি ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এই অর্থের উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আসামিকে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। গত ১২ জুলাই রাতে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ

মানি লন্ডারিং মামলায় রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায়, সুশান্ত অধিকারী ও বাসুদেব গুহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানিতে অংশ নেন। তারা আদালতকে বলেন, অভিযোগে মানি লন্ডারিংয়ের একটি লাইনও নেই। হরিদাস চন্দ্র একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, যিনি মন্দির পরিচালনা করেন এবং ভক্তদের কাছ থেকে মন্দিরের জন্য অর্থ গ্রহণ করেন। এতে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো বিষয় নেই।

আদালতের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র নিজেও বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নাই।’ তিনি আরও বলেন, ভক্তদের দেওয়া এই টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করা হয়, তবে তা খতিয়ে দেখা হোক। বিচারক এই টাকা ভক্তদের দেওয়া কি না জানতে চাইলে তিনি ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এই অর্থের উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আসামিকে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। গত ১২ জুলাই রাতে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।