ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বিমানবন্দরে প্রবাসীর লাশ হস্তান্তরে ভোগান্তি: অভিযোগ অস্বীকার, নতুন উদ্যোগের ঘোষণা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাশ গ্রহণ ও হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এই অভিযোগ অস্বীকার করে দ্রুত সেবা প্রদানের কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রবাস থেকে আসা লাশ দ্রুত স্বজনদের হাতে তুলে দিতে সরকারি উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ওমর ফারুকের উদাহরণ তুলে ধরে তাঁর স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ফারুকের লাশ গত ডিসেম্বরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্বজনদের হাতে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কাগজের জটিলতা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কক্ষের চক্করে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন তাঁর ভায়রা নুর ইসলাম। প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি প্রবাসে মারা যান এবং তাদের লাশ দেশে ফেরত আনার পর স্বজনদের এই ধরনের জটিলতা ও দুর্নীতির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে, সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে আসামাত্রই কোনো অহেতুক বিলম্ব ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে দাফন খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। তাঁর মতে, বর্তমানে এখানে কোনো ধরনের হয়রানির সুযোগ নেই।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৮ এপ্রিল কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা ৩৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ দেশে আসে। এই লাশগুলো হস্তান্তরের সময়ও সরকারের পক্ষ থেকে দাফন ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত গ্রাম থেকে আসা প্রবাসীদের স্বজনরা বিমানবন্দরের প্রক্রিয়াগুলো সহজে বুঝতে পারেন না। কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা একটি চক্র এর সুযোগ নেয়। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সার্টিফিকেট থাকলে লাশ পেতে কোনো সমস্যা হয় না বলে তারা উল্লেখ করেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে এখন প্রবাসীদের লাশ বিনা খরচে দেশের যেকোনো প্রান্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি লাশ পরিবহনের জন্য নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যা এই সেবাকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

বিমানবন্দরে প্রবাসীর লাশ হস্তান্তরে ভোগান্তি: অভিযোগ অস্বীকার, নতুন উদ্যোগের ঘোষণা

আপডেট সময় : ০২:৫০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাশ গ্রহণ ও হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এই অভিযোগ অস্বীকার করে দ্রুত সেবা প্রদানের কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রবাস থেকে আসা লাশ দ্রুত স্বজনদের হাতে তুলে দিতে সরকারি উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ওমর ফারুকের উদাহরণ তুলে ধরে তাঁর স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ফারুকের লাশ গত ডিসেম্বরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্বজনদের হাতে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কাগজের জটিলতা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কক্ষের চক্করে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন তাঁর ভায়রা নুর ইসলাম। প্রতিবছর বহু বাংলাদেশি প্রবাসে মারা যান এবং তাদের লাশ দেশে ফেরত আনার পর স্বজনদের এই ধরনের জটিলতা ও দুর্নীতির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে, সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে আসামাত্রই কোনো অহেতুক বিলম্ব ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে দাফন খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। তাঁর মতে, বর্তমানে এখানে কোনো ধরনের হয়রানির সুযোগ নেই।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৮ এপ্রিল কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা ৩৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ দেশে আসে। এই লাশগুলো হস্তান্তরের সময়ও সরকারের পক্ষ থেকে দাফন ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত গ্রাম থেকে আসা প্রবাসীদের স্বজনরা বিমানবন্দরের প্রক্রিয়াগুলো সহজে বুঝতে পারেন না। কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা একটি চক্র এর সুযোগ নেয়। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সার্টিফিকেট থাকলে লাশ পেতে কোনো সমস্যা হয় না বলে তারা উল্লেখ করেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে এখন প্রবাসীদের লাশ বিনা খরচে দেশের যেকোনো প্রান্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি লাশ পরিবহনের জন্য নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যা এই সেবাকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।