রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। রোববার উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন ক্রিভি রিহ শহরের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন শহরে রুশ ড্রোন হামলায় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইয়ারোস্লাভ শানকো।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে ইউক্রেন উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া তাদের হামলা আরও জোরদার করেছে। গত সপ্তাহে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনকে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে দেশীয়ভাবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহী।
অন্যদিকে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় শহর এনারহোদারে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ। জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান এনারহোদারে, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকেই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ ছাড়া ইউক্রেনের দূরপাল্লার একটি ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, সোমবার প্যারিসে অন্তত ২৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ইউক্রেনকে আরও সহায়তা দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























