ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

অনিয়ম সত্ত্বেও তদবিরে সচল অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতাল

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজগেট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের ছয়তলা ভবনে অবস্থিত ছয়টি হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং একটি ব্লাড ব্যাংক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মাত্র তিন মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে বন্ধের নির্দেশ পেলেও বর্তমানে আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ ছিল—ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে রোগী দেখা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, অনুমোদনহীন আইসিইউ পরিচালনা, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর অভাব এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম। একই সময়ে চানখাঁরপুল এলাকার কয়েকটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বন্ধের নির্দেশ উপেক্ষা করে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই আবার আগের মতোই রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার, আইসিইউ সেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্নে দিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ কয়েক বছর আগেই শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমস্যাটি শুধু কয়েকটি বন্ধ ঘোষিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেবার নামে কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই মানসম্মত রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, প্রশিক্ষিত নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্ট কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসক। ছোট ছোট কক্ষ ভাড়া নিয়ে, জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে চিকিৎসাসেবা। কোথাও সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী এনে ভর্তি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অনেক ভবনের নিচতলায় ভাঙারির দোকান, রাসায়নিক পণ্যের গুদাম, পরিবহন প্রতিষ্ঠানের অফিস বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। রোগীদের ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত সিঁড়িগুলোও অত্যন্ত সরু। নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবার ন্যূনতম প্রস্তুতি। অথচ বাইরে বড় বড় সাইনবোর্ডে ক্যানসার, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও অন্যান্য বিষয়ের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম টাঙানো রয়েছে। বাস্তবে এসব চিকিৎসকের অধিকাংশই নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিভিতে আজ ফুটবল বিশ্বকাপ ও টেনিস

অনিয়ম সত্ত্বেও তদবিরে সচল অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজগেট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের ছয়তলা ভবনে অবস্থিত ছয়টি হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং একটি ব্লাড ব্যাংক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মাত্র তিন মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে বন্ধের নির্দেশ পেলেও বর্তমানে আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ ছিল—ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে রোগী দেখা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, অনুমোদনহীন আইসিইউ পরিচালনা, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর অভাব এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম। একই সময়ে চানখাঁরপুল এলাকার কয়েকটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বন্ধের নির্দেশ উপেক্ষা করে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই আবার আগের মতোই রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার, আইসিইউ সেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্নে দিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ কয়েক বছর আগেই শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমস্যাটি শুধু কয়েকটি বন্ধ ঘোষিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেবার নামে কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই মানসম্মত রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, প্রশিক্ষিত নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্ট কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসক। ছোট ছোট কক্ষ ভাড়া নিয়ে, জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে চিকিৎসাসেবা। কোথাও সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী এনে ভর্তি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অনেক ভবনের নিচতলায় ভাঙারির দোকান, রাসায়নিক পণ্যের গুদাম, পরিবহন প্রতিষ্ঠানের অফিস বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। রোগীদের ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত সিঁড়িগুলোও অত্যন্ত সরু। নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবার ন্যূনতম প্রস্তুতি। অথচ বাইরে বড় বড় সাইনবোর্ডে ক্যানসার, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও অন্যান্য বিষয়ের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম টাঙানো রয়েছে। বাস্তবে এসব চিকিৎসকের অধিকাংশই নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না।