ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ডেঙ্গু ও ডায়াবেটিসের দ্বিমুখী সংকট: মিলির জীবন-মৃত্যুর লড়াই

সন্ধ্যার পর ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মিলির ডেঙ্গু পজিটিভ রিপোর্ট হাতে আসার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এর সাথে রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণও কমতির দিকে। ডায়াবেটিস বেশি থাকলেও সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার আশা ছিল, কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ যেন এক নতুন আতঙ্কের জন্ম দেয়। ডাক্তারের পরামর্শে স্যালাইন ও তরলজাতীয় খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের ডেঙ্গু হলে বিপদের মাত্রাটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে; স্যালাইন দিলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং ইচ্ছেমতো ডাবের পানি বা ফলমূলের জুসও খাওয়া যায় না।

লাগাতার স্যালাইন চললেও মিলি কিছুই মুখে তুলতে পারছিলেন না। মুখে প্রচন্ড অরুচি থাকায় পরপর দুদিন কেটে যায় না খেয়েই। ডেঙ্গু আক্রান্ত স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখে স্বামী ওমর স্থির থাকতে পারছিলেন না। ওমর, মিলি এবং তাদের পুত্র আরমান—এই তিন সদস্যের পরিবারটি এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়েনি। বুয়া এসে রান্নাবান্না করে দিয়ে গেলেও, কারোই খাওয়ার ইচ্ছে বা রুচি ছিল না।

রাতে মিলির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে দুশ্চিন্তার মাত্রা বাড়ে। বাথরুমে যেতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পান তিনি এবং কারো সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারছিলেন না। ওমর রোগীর শারীরিক অবস্থা জানিয়ে কয়েকজন ডাক্তার বন্ধু ও আত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন। প্রায় সবাই মিলিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন।

কোনোভাবে রাত পার করার পর সকালের দিকে মিলি জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সে তা কোনোভাবেই মেনে নিতে চাননি। তার একটাই কথা ছিল, বাসায় স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধপত্র খেলেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু ততক্ষণে রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণ আরও অনেক কমে গেছে এবং দ্রুতগতিতে কমছে। একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জন্য এটি মারাত্মক বিপদের ইঙ্গিত। আজকাল ডেঙ্গুকে অবহেলা করা মানে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনা, কারণ আশেপাশে অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

অবশেষে পরিবারের সবার আকুতি আর তাগিদ উপেক্ষা করতে না পেরে বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে রাজি হন মিলি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় চিকিৎসাসেবার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর: ‘মাকে বিদেশে নিইনি, এমন মানবিক সেবা সেখানে মিলতো না’

ডেঙ্গু ও ডায়াবেটিসের দ্বিমুখী সংকট: মিলির জীবন-মৃত্যুর লড়াই

আপডেট সময় : ০১:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সন্ধ্যার পর ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মিলির ডেঙ্গু পজিটিভ রিপোর্ট হাতে আসার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এর সাথে রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণও কমতির দিকে। ডায়াবেটিস বেশি থাকলেও সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার আশা ছিল, কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ যেন এক নতুন আতঙ্কের জন্ম দেয়। ডাক্তারের পরামর্শে স্যালাইন ও তরলজাতীয় খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের ডেঙ্গু হলে বিপদের মাত্রাটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে; স্যালাইন দিলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং ইচ্ছেমতো ডাবের পানি বা ফলমূলের জুসও খাওয়া যায় না।

লাগাতার স্যালাইন চললেও মিলি কিছুই মুখে তুলতে পারছিলেন না। মুখে প্রচন্ড অরুচি থাকায় পরপর দুদিন কেটে যায় না খেয়েই। ডেঙ্গু আক্রান্ত স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখে স্বামী ওমর স্থির থাকতে পারছিলেন না। ওমর, মিলি এবং তাদের পুত্র আরমান—এই তিন সদস্যের পরিবারটি এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়েনি। বুয়া এসে রান্নাবান্না করে দিয়ে গেলেও, কারোই খাওয়ার ইচ্ছে বা রুচি ছিল না।

রাতে মিলির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে দুশ্চিন্তার মাত্রা বাড়ে। বাথরুমে যেতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পান তিনি এবং কারো সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারছিলেন না। ওমর রোগীর শারীরিক অবস্থা জানিয়ে কয়েকজন ডাক্তার বন্ধু ও আত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন। প্রায় সবাই মিলিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন।

কোনোভাবে রাত পার করার পর সকালের দিকে মিলি জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সে তা কোনোভাবেই মেনে নিতে চাননি। তার একটাই কথা ছিল, বাসায় স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধপত্র খেলেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু ততক্ষণে রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণ আরও অনেক কমে গেছে এবং দ্রুতগতিতে কমছে। একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জন্য এটি মারাত্মক বিপদের ইঙ্গিত। আজকাল ডেঙ্গুকে অবহেলা করা মানে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনা, কারণ আশেপাশে অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

অবশেষে পরিবারের সবার আকুতি আর তাগিদ উপেক্ষা করতে না পেরে বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে রাজি হন মিলি।