ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে বেলজিয়ামের বিদায়: থিবো কোর্তোয়ার শেষ প্রহরের কান্না

স্পেন-বেলজিয়ামের মধ্যকার বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের তখন ৮৮ মিনিট। স্কোর ১-১ গোলে সমতা। নির্ধারিত সময়ের শেষ আর যোগ করা সময়টুকুতেই নির্ধারিত হবে কে যাবে পরবর্তী ধাপে। এমন উত্তেজনার মুহূর্তে স্পেনের পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট রুখতে গিয়ে বল হাতে জমাতে পারেননি বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক ল্যামেন্স। ফিরতি বল পেয়েই মিকেল মেরিনো জালে জড়িয়ে দেন এবং বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

ইয়ামাল-মেরিনোরা যখন উল্লাসে মত্ত, তখন ক্যামেরার লেন্স ঘুরে যায় ডাগআউটের দিকে। সেখানে নীরবে বসে ছিলেন দীর্ঘদিনের বেলজিয়ামের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। মুখে হতাশা, চোখে অবিশ্বাস। তাঁর দীর্ঘশ্বাস যেন লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের বাতাসে এক বিষাদের সুর ছড়িয়ে দেয়। স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচে বেলজিয়াম সমানে সমান লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কোর্তোয়া একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে একটি লম্বা গোলকিক নেওয়ার সময় তিনি বাম ঊরুর কোয়াড্রিসেপসে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন।

চিকিৎসার পর তিনি আবার খেলতে শুরু করলেও, কোর্তোয়ার মনে হচ্ছিল গোলপোস্টে থাকা সম্ভব, তবে লম্বা কিক নেওয়াটা কঠিন হবে। কিন্তু কোচ রুডি গার্সিয়া শতভাগ ফিট নন এমন একজন গোলরক্ষককে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি। ৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়াকে তুলে মাঠে নামানো হয় তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সকে। বেঞ্চে বসেই কোর্তোয়ার চোখ ভিজে ওঠে। তিনি তখন জানতেন না, সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় যন্ত্রণা। যে যন্ত্রণা তাকে বয়ে বেড়াতে হবে আগামী চার বছর। এই হারে কোর্তোয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বয়সের ভারে তিনি কি পরবর্তী বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন, নাকি এই ম্যাচটিই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তবে ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া নিজের মহত্ব প্রমাণ করেছেন। খেলা শেষে তিনি সবার আগে এগিয়ে যান ল্যামেন্সের কাছে। ভেঙে পড়া তরুণ গোলরক্ষককে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। তিনি জানেন, গোলরক্ষকের ভুলের বোঝা কতটা ভারী হতে পারে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোর্তোয়া বলেন, ‘কোয়াড্রিসেপসে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম। তবু আমি গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। শুধু লম্বা কিক নেওয়াটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। কোচ আমাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ ডেঙ্গুর আশঙ্কা

বিশ্বকাপ থেকে বেলজিয়ামের বিদায়: থিবো কোর্তোয়ার শেষ প্রহরের কান্না

আপডেট সময় : ০৪:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

স্পেন-বেলজিয়ামের মধ্যকার বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের তখন ৮৮ মিনিট। স্কোর ১-১ গোলে সমতা। নির্ধারিত সময়ের শেষ আর যোগ করা সময়টুকুতেই নির্ধারিত হবে কে যাবে পরবর্তী ধাপে। এমন উত্তেজনার মুহূর্তে স্পেনের পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট রুখতে গিয়ে বল হাতে জমাতে পারেননি বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক ল্যামেন্স। ফিরতি বল পেয়েই মিকেল মেরিনো জালে জড়িয়ে দেন এবং বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

ইয়ামাল-মেরিনোরা যখন উল্লাসে মত্ত, তখন ক্যামেরার লেন্স ঘুরে যায় ডাগআউটের দিকে। সেখানে নীরবে বসে ছিলেন দীর্ঘদিনের বেলজিয়ামের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। মুখে হতাশা, চোখে অবিশ্বাস। তাঁর দীর্ঘশ্বাস যেন লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের বাতাসে এক বিষাদের সুর ছড়িয়ে দেয়। স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচে বেলজিয়াম সমানে সমান লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কোর্তোয়া একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে একটি লম্বা গোলকিক নেওয়ার সময় তিনি বাম ঊরুর কোয়াড্রিসেপসে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন।

চিকিৎসার পর তিনি আবার খেলতে শুরু করলেও, কোর্তোয়ার মনে হচ্ছিল গোলপোস্টে থাকা সম্ভব, তবে লম্বা কিক নেওয়াটা কঠিন হবে। কিন্তু কোচ রুডি গার্সিয়া শতভাগ ফিট নন এমন একজন গোলরক্ষককে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি। ৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়াকে তুলে মাঠে নামানো হয় তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সকে। বেঞ্চে বসেই কোর্তোয়ার চোখ ভিজে ওঠে। তিনি তখন জানতেন না, সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় যন্ত্রণা। যে যন্ত্রণা তাকে বয়ে বেড়াতে হবে আগামী চার বছর। এই হারে কোর্তোয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বয়সের ভারে তিনি কি পরবর্তী বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন, নাকি এই ম্যাচটিই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তবে ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া নিজের মহত্ব প্রমাণ করেছেন। খেলা শেষে তিনি সবার আগে এগিয়ে যান ল্যামেন্সের কাছে। ভেঙে পড়া তরুণ গোলরক্ষককে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। তিনি জানেন, গোলরক্ষকের ভুলের বোঝা কতটা ভারী হতে পারে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোর্তোয়া বলেন, ‘কোয়াড্রিসেপসে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম। তবু আমি গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। শুধু লম্বা কিক নেওয়াটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। কোচ আমাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’