ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অভিযানে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শীর্ষ সহযোগী ফ্রান্সে গ্রেপ্তার

বিশ্বব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পর এবার ফ্রান্সও এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি কানাডায় কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনার সূত্র ধরে ফ্রান্সে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক শীর্ষ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পাশাপাশি, কানাডিয়ান পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্য এক সদস্যকে ভারত ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ গত শুক্রবার জানিয়েছে, ফ্রান্স থেকে গরিন্দর দেব নামের এক গ্যাংস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানাডায় নিয়ে আসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সী গরিন্দর দেব ‘ডক্টর’, ‘রকেট’ এবং ‘রিটজ কার্লটন’ নামেও পরিচিত। তার বিরুদ্ধে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ককে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ কোকেন এবং হেরোইন পাচারের ষড়যন্ত্র ও সরবরাহে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে প্রায় ৯৯.২ কেজি কোকেন এবং ১ কেজি হেরোইনের একটি চালান পাঠানোর চেষ্টার সঙ্গে তার নাম জড়ায়, যা পথিমধ্যেই মার্কিন সংস্থাগুলো জব্দ করেছিল।

ভিন্ন এক মামলায়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত সদস্য জশানদীপ সিংকে দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে কানাডার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি ট্রাইব্যুনাল’। কানাডার সারে নামক এলাকায় কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে জশানদীপের বিরুদ্ধে। অবশ্য এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ২০২২ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় এসেছিলেন জশানদীপ। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। এর আগে আর্শদীপ সিং নামের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আরেক সদস্যকেও কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং কানাডায় পরপর এই পদক্ষেপ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিদেশি নেটওয়ার্ক ধ্বংসের একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ। এই অভিযান বিশ্বজুড়ে অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় চিকিৎসাসেবার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর: ‘মাকে বিদেশে নিইনি, এমন মানবিক সেবা সেখানে মিলতো না’

আন্তর্জাতিক অভিযানে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শীর্ষ সহযোগী ফ্রান্সে গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:৩৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পর এবার ফ্রান্সও এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি কানাডায় কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনার সূত্র ধরে ফ্রান্সে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক শীর্ষ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পাশাপাশি, কানাডিয়ান পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্য এক সদস্যকে ভারত ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ গত শুক্রবার জানিয়েছে, ফ্রান্স থেকে গরিন্দর দেব নামের এক গ্যাংস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানাডায় নিয়ে আসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সী গরিন্দর দেব ‘ডক্টর’, ‘রকেট’ এবং ‘রিটজ কার্লটন’ নামেও পরিচিত। তার বিরুদ্ধে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ককে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ কোকেন এবং হেরোইন পাচারের ষড়যন্ত্র ও সরবরাহে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে প্রায় ৯৯.২ কেজি কোকেন এবং ১ কেজি হেরোইনের একটি চালান পাঠানোর চেষ্টার সঙ্গে তার নাম জড়ায়, যা পথিমধ্যেই মার্কিন সংস্থাগুলো জব্দ করেছিল।

ভিন্ন এক মামলায়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত সদস্য জশানদীপ সিংকে দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে কানাডার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি ট্রাইব্যুনাল’। কানাডার সারে নামক এলাকায় কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে জশানদীপের বিরুদ্ধে। অবশ্য এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ২০২২ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় এসেছিলেন জশানদীপ। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। এর আগে আর্শদীপ সিং নামের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আরেক সদস্যকেও কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং কানাডায় পরপর এই পদক্ষেপ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিদেশি নেটওয়ার্ক ধ্বংসের একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ। এই অভিযান বিশ্বজুড়ে অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরছে।