ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনি: দীর্ঘ বিরতির পর ফের পাথর উত্তোলন শুরু, সংকট কাটলো বিস্ফোরকের

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে দীর্ঘ ১ মাস ২২ দিন বন্ধ থাকার পর পাথর উত্তোলন কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে খনিটিতে পুরোদমে পাথর উত্তোলনের কাজ চলছে। ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুরিয়ে যাওয়ায় ৫২ দিন আগে এই কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি হওয়ায় শনিবার থেকে এটি পুনরায় চালু হলো।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্যের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উত্তোলনের কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল। শনিবার সকাল থেকে পাথর উত্তোলন পুরোদমে শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৮৮ মেট্রিকটন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরক দ্রব্য খনিতে পৌঁছেছে, যা দিয়ে আড়াই মাস পাথর উত্তোলনের কাজ চলবে। মোট ৩০০ মেট্রিকটন বিস্ফোরক দ্রব্যের চাহিদা দেওয়া রয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে আসবে।

জানা গেছে, খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় এর আগেও কয়েক দফা মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। বিস্ফোরকের অভাবে বিভিন্ন সময়ে খনি বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস, ২০১৮ সালে ৭ দিন, এবং পরবর্তীতে পাথরের ইয়ার্ডে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ২ মাস ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক মাস।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তিন শিফটে প্রায় ৭৫০ জন শ্রমিক নিয়ে পাথর তোলার কাজ করছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ছয় বছরের পুনঃচুক্তি করে এমজিএমসিএল। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় চিকিৎসাসেবার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর: ‘মাকে বিদেশে নিইনি, এমন মানবিক সেবা সেখানে মিলতো না’

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনি: দীর্ঘ বিরতির পর ফের পাথর উত্তোলন শুরু, সংকট কাটলো বিস্ফোরকের

আপডেট সময় : ০২:৪২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে দীর্ঘ ১ মাস ২২ দিন বন্ধ থাকার পর পাথর উত্তোলন কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে খনিটিতে পুরোদমে পাথর উত্তোলনের কাজ চলছে। ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুরিয়ে যাওয়ায় ৫২ দিন আগে এই কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি হওয়ায় শনিবার থেকে এটি পুনরায় চালু হলো।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্যের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উত্তোলনের কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল। শনিবার সকাল থেকে পাথর উত্তোলন পুরোদমে শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৮৮ মেট্রিকটন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরক দ্রব্য খনিতে পৌঁছেছে, যা দিয়ে আড়াই মাস পাথর উত্তোলনের কাজ চলবে। মোট ৩০০ মেট্রিকটন বিস্ফোরক দ্রব্যের চাহিদা দেওয়া রয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে আসবে।

জানা গেছে, খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় এর আগেও কয়েক দফা মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। বিস্ফোরকের অভাবে বিভিন্ন সময়ে খনি বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস, ২০১৮ সালে ৭ দিন, এবং পরবর্তীতে পাথরের ইয়ার্ডে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ২ মাস ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক মাস।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তিন শিফটে প্রায় ৭৫০ জন শ্রমিক নিয়ে পাথর তোলার কাজ করছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ছয় বছরের পুনঃচুক্তি করে এমজিএমসিএল। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।