ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

খুলনায় এইডসের উদ্বেগজনক বিস্তার: ৮ মাসে ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৫

খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত আট মাসে এইডসজনিত জটিলতায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কর্নারের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারী যৌনকর্মী সাতজন, পুরুষ যৌনকর্মী ছয়জন, পুরুষ সমকামী ২২ জন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এক নারী এবং অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে বসবাসকারী আটজন রয়েছেন। এছাড়া সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১১ জন শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও ছয়জন নারী।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে মোট ৭৩৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৪ জন পুরুষ এবং ৩০১ জন নারী।

মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার একজন নারী রোগীর মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে চারজন (দুজন পুরুষ ও দুজন নারী), মার্চে তিনজন (দুজন পুরুষ ও একজন নারী) মারা যান। এপ্রিলে মারা যান দুজন, যাদের একজন যশোর এবং অন্যজন পিরোজপুরের বাসিন্দা। মে মাসে খুলনার একজন নারী রোগীর মৃত্যু হয়, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। জুনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যশোরের একজন পুরুষ রোগী। জুলাই মাসেও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে, সব মিলিয়ে আট মাসে মৃতের সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

এআরটি সেন্টারের ডেটা সহকারী চিন্ময় দাস জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে মোট ৭ হাজার ৭৭৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০৩ জন পুরুষ, ৩৫৩ জন নারী এবং আটজন হিজড়া।

তিনি আরও জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১১০ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৬৭ জন, পুরুষ সমকামী ২৪০ জন, হিজড়া আটজন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দুজন, সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৪৫০ জন, নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যাতায়াতকারী ১৫ জন, অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে বসবাসকারী ৩৭ জন এবং বিদেশ ফেরত ২৬ জন রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক বৃত্তির ফল ফাঁস: নির্দেশনা অমান্যকারী কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

খুলনায় এইডসের উদ্বেগজনক বিস্তার: ৮ মাসে ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৫

আপডেট সময় : ০২:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত আট মাসে এইডসজনিত জটিলতায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কর্নারের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারী যৌনকর্মী সাতজন, পুরুষ যৌনকর্মী ছয়জন, পুরুষ সমকামী ২২ জন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এক নারী এবং অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে বসবাসকারী আটজন রয়েছেন। এছাড়া সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১১ জন শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও ছয়জন নারী।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে মোট ৭৩৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৪ জন পুরুষ এবং ৩০১ জন নারী।

মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার একজন নারী রোগীর মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে চারজন (দুজন পুরুষ ও দুজন নারী), মার্চে তিনজন (দুজন পুরুষ ও একজন নারী) মারা যান। এপ্রিলে মারা যান দুজন, যাদের একজন যশোর এবং অন্যজন পিরোজপুরের বাসিন্দা। মে মাসে খুলনার একজন নারী রোগীর মৃত্যু হয়, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। জুনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যশোরের একজন পুরুষ রোগী। জুলাই মাসেও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে, সব মিলিয়ে আট মাসে মৃতের সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

এআরটি সেন্টারের ডেটা সহকারী চিন্ময় দাস জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে মোট ৭ হাজার ৭৭৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০৩ জন পুরুষ, ৩৫৩ জন নারী এবং আটজন হিজড়া।

তিনি আরও জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১১০ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৬৭ জন, পুরুষ সমকামী ২৪০ জন, হিজড়া আটজন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দুজন, সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৪৫০ জন, নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যাতায়াতকারী ১৫ জন, অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে বসবাসকারী ৩৭ জন এবং বিদেশ ফেরত ২৬ জন রয়েছেন।