ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও স্বজনহারাদের জীবনে হাহাকার

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্বামীর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে মারিয়া সুলতানা রাখির আকুতি ছিল হৃদয়বিদারক। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিধবা হওয়া মারিয়া কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, আন্দোলনে গিয়ে তার স্বামী নাজমুল আর বেঁচে নেই। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন। ঘটনার দুই বছর পর, ২০২৬ সালেও নিহত ও আহতদের পরিবারগুলো সেই তীব্র শোক ও কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন।

মারিয়া সুলতানার জন্য স্বামী নাজমুলের অভাব এখনো কমেনি। ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর স্বামীই ছিল তার একমাত্র অবলম্বন। তাদের দুই বছর বয়সি কন্যাসন্তানটি এখনো জানে না তার বাবা আর নেই। মেয়েটি সারাক্ষণ বাবাকে খোঁজে এবং অন্য শিশুদের দেখে ফুফাতো বা খালাতো ভাইকে ‘বাবা’ বলে ডাকে। মারিয়া যখন বাইরে যান, মেয়েটি বলে, ‘আম্মু আসার সময় ড্যাডিকে নিয়ে আসবে।’ বাসায় ফিরে বাবাকে না দেখে সে বায়না ধরে। মেয়েটি বড় হলে তাকে এই কঠিন সত্যটি কীভাবে জানাবেন, তা ভেবে মারিয়া দিশেহারা।

সংসারের সব দায়িত্ব এখন মারিয়াকে একাই সামলাতে হচ্ছে। আগে স্বামী হাত ধরে রাস্তা পার করাতেন, পেঁয়াজ কাটতে দিতেন না। এখন একা একা সবই করতে হয়। বাজারে মাছ কিনতে গেলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না তিনি। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ তার মায়ের লাল ওড়না মাথায় পেঁচিয়ে মিছিলে গিয়েছিল। পরদিন ৪ আগস্ট মহীপালে মিছিলে অংশ নিলে আগ্নেয়াস্ত্রের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। শ্রাবণের মায়ের আক্ষেপ, তার ছেলের পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল, পা নীল হয়ে গিয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাব সম্পাদক: সাংবাদিকতাকে দলীয়করণ নয়, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন

গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও স্বজনহারাদের জীবনে হাহাকার

আপডেট সময় : ১২:১১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্বামীর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে মারিয়া সুলতানা রাখির আকুতি ছিল হৃদয়বিদারক। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিধবা হওয়া মারিয়া কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, আন্দোলনে গিয়ে তার স্বামী নাজমুল আর বেঁচে নেই। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন। ঘটনার দুই বছর পর, ২০২৬ সালেও নিহত ও আহতদের পরিবারগুলো সেই তীব্র শোক ও কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন।

মারিয়া সুলতানার জন্য স্বামী নাজমুলের অভাব এখনো কমেনি। ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর স্বামীই ছিল তার একমাত্র অবলম্বন। তাদের দুই বছর বয়সি কন্যাসন্তানটি এখনো জানে না তার বাবা আর নেই। মেয়েটি সারাক্ষণ বাবাকে খোঁজে এবং অন্য শিশুদের দেখে ফুফাতো বা খালাতো ভাইকে ‘বাবা’ বলে ডাকে। মারিয়া যখন বাইরে যান, মেয়েটি বলে, ‘আম্মু আসার সময় ড্যাডিকে নিয়ে আসবে।’ বাসায় ফিরে বাবাকে না দেখে সে বায়না ধরে। মেয়েটি বড় হলে তাকে এই কঠিন সত্যটি কীভাবে জানাবেন, তা ভেবে মারিয়া দিশেহারা।

সংসারের সব দায়িত্ব এখন মারিয়াকে একাই সামলাতে হচ্ছে। আগে স্বামী হাত ধরে রাস্তা পার করাতেন, পেঁয়াজ কাটতে দিতেন না। এখন একা একা সবই করতে হয়। বাজারে মাছ কিনতে গেলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না তিনি। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ তার মায়ের লাল ওড়না মাথায় পেঁচিয়ে মিছিলে গিয়েছিল। পরদিন ৪ আগস্ট মহীপালে মিছিলে অংশ নিলে আগ্নেয়াস্ত্রের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। শ্রাবণের মায়ের আক্ষেপ, তার ছেলের পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল, পা নীল হয়ে গিয়েছিল।