ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত, জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, যা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় নগরের আমবাগান আবহাওয়া অফিসে সর্বোচ্চ ৩৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে, গত চার দিনে চট্টগ্রামে মোট ৮৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সর্বশেষ আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই অতিবর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বর্ষণের ফলে নগরীর নিচু এলাকাগুলো এখনো পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। গতকাল বিকেলে বৃষ্টি কিছুটা বিরতি দিলেও গত রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে এলাকাগুলো পুনরায় প্লাবিত হয়েছে। নগরের মুরাদপুর, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদের বেপারীপাড়া, কমার্স কলেজ রোড, ২ নম্বর গেট, ষোলশহর, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, ফিরোজশাহ, আকবরশাহ বিশ্ব কলোনি এবং উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় রাতে পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাশাপাশি খাল-নালা দখলের কারণে এই জলাবদ্ধতার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এই অবিরাম বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ ও দিনমজুরেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এছাড়া, সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, মিনিবাস, মোটরসাইকেল, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক যানবাহন পানিতে বিকল হয়ে যাওয়ায় অফিসগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সুযোগে কিছু চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের ঘটনায় চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে এক ১০ মাস বয়সি শিশু এবং নগরের চশমা হিলের মেয়র গলিতে পাহাড়ধসে এক ১৩ বছর বয়সি কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন, মঙ্গলবার, নগরের রহমাননগরে দেয়ালধসে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো অতিভারি বর্ষণের সাথে সম্পর্কিত দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্র নিহত, অপর সন্তান গুরুতর আহত

চট্টগ্রামে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত, জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, যা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় নগরের আমবাগান আবহাওয়া অফিসে সর্বোচ্চ ৩৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে, গত চার দিনে চট্টগ্রামে মোট ৮৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সর্বশেষ আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই অতিবর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বর্ষণের ফলে নগরীর নিচু এলাকাগুলো এখনো পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। গতকাল বিকেলে বৃষ্টি কিছুটা বিরতি দিলেও গত রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে এলাকাগুলো পুনরায় প্লাবিত হয়েছে। নগরের মুরাদপুর, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদের বেপারীপাড়া, কমার্স কলেজ রোড, ২ নম্বর গেট, ষোলশহর, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, ফিরোজশাহ, আকবরশাহ বিশ্ব কলোনি এবং উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় রাতে পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাশাপাশি খাল-নালা দখলের কারণে এই জলাবদ্ধতার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এই অবিরাম বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ ও দিনমজুরেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এছাড়া, সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, মিনিবাস, মোটরসাইকেল, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক যানবাহন পানিতে বিকল হয়ে যাওয়ায় অফিসগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সুযোগে কিছু চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের ঘটনায় চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে এক ১০ মাস বয়সি শিশু এবং নগরের চশমা হিলের মেয়র গলিতে পাহাড়ধসে এক ১৩ বছর বয়সি কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন, মঙ্গলবার, নগরের রহমাননগরে দেয়ালধসে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো অতিভারি বর্ষণের সাথে সম্পর্কিত দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।