মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরকান আর্মির মধ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের প্রভাবে চরম অশান্তি বিরাজ করছে বাংলাদেশের সীমান্ত জনপদে। কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাসিন্দারা এখন প্রতিনিয়ত এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর থেকেই নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এক ধরনের ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। ওপার থেকে ভেসে আসা ভারী অস্ত্রের গর্জন আর বোমার শব্দে নির্ঘুম রাত পার করছেন হাজার হাজার মানুষ।
বর্তমানে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ দেশটির মাত্র এক-পঞ্চমাংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাকি এলাকাগুলো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থি পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) দখলে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডির তথ্যমতে, মিয়ানমার এখন বিশ্বের অন্যতম খণ্ডিত ও জটিল এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে। এক সময় যে নদী ছিল জেলেদের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস, এখন সেই নদীই হয়ে উঠেছে মরণফাঁদ।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলেই আরকান আর্মির হাতে অপহরণের শিকার হতে হচ্ছে। গত দুই বছরে প্রায় চার শতাধিক জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ। এছাড়া স্থলমাইন বিস্ফোরণ এবং নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা সীমান্তবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জীবন আর জীবিকার এমন টানাপোড়েনে সীমান্তের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত।
রিপোর্টারের নাম 






















