ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পথ প্রশস্ত করলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে ২০১১ সালে পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিতর্কিত অংশগুলো বাতিল হয়ে গেল এবং সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান কার্যকর হলো। গতকাল বুধবার টানা তিন দিন শুনানির পর আপিল বিভাগ রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।

বিচারিক পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনগুলোতে জনগণের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি এবং এ নিয়ে জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিকে ধাবিত করে। আদালত তার রায়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের যেসব ধারা গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, বিশেষ করে ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ, সেগুলোকে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত।

এই রায়ের ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া গণভোটের বিধান অর্থাৎ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে। এছাড়াও আদালত সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ) এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদসমূহকেও বাতিল ঘোষণা করেছেন, যা সংবিধান সংশোধনের অযোগ্যতা এবং মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সংক্রান্ত ছিল। তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি; রায়ে বলা হয়েছে, জাতির পিতার স্বীকৃতি কিংবা ২৬ মার্চের ভাষণের মতো বিষয়গুলো আগামী জাতীয় সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে আইন অনুসারে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিল সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর বিভিন্ন অংশকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই রিট আবেদনগুলো করেছিলেন। আজকের আপিল বিভাগের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো, যা দেশের আগামী দিনের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন: বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

আপডেট সময় : ১০:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পথ প্রশস্ত করলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে ২০১১ সালে পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিতর্কিত অংশগুলো বাতিল হয়ে গেল এবং সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান কার্যকর হলো। গতকাল বুধবার টানা তিন দিন শুনানির পর আপিল বিভাগ রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।

বিচারিক পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনগুলোতে জনগণের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি এবং এ নিয়ে জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিকে ধাবিত করে। আদালত তার রায়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের যেসব ধারা গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, বিশেষ করে ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ, সেগুলোকে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত।

এই রায়ের ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া গণভোটের বিধান অর্থাৎ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে। এছাড়াও আদালত সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ) এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদসমূহকেও বাতিল ঘোষণা করেছেন, যা সংবিধান সংশোধনের অযোগ্যতা এবং মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সংক্রান্ত ছিল। তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি; রায়ে বলা হয়েছে, জাতির পিতার স্বীকৃতি কিংবা ২৬ মার্চের ভাষণের মতো বিষয়গুলো আগামী জাতীয় সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে আইন অনুসারে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিল সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর বিভিন্ন অংশকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই রিট আবেদনগুলো করেছিলেন। আজকের আপিল বিভাগের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো, যা দেশের আগামী দিনের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।