মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে চলা ভারি বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ১৯৮৩ সালের পর সর্বোচ্চ। টানা এই বর্ষণে বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত এই শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে নিচু এলাকাগুলো এখন পানির নিচে।
জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এদিকে অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানে ১৭৬, সীতাকুণ্ডে ১৭০ এবং হাতিয়ায় ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে রাজধানীতে মাত্র ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই মিরপুর, কাজীপাড়া ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















