ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে খামেনির কফিন: শেষ শ্রদ্ধায় লাখো মানুষের ঢল

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন আজ সোমবার রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে। গতকাল রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর আজ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে লাখো ইরানি সমবেত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শোক প্রকাশ করছেন। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের কাছে এই আয়োজন কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং জাতীয় সংহতি প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। দীর্ঘ চার দশক ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার প্রতি জনগণের এই ভালোবাসা বহির্বিশ্বে একটি বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জনসমাগমের মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করতে চাইছে যে, সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া স্থিতিশীল রয়েছে। খামেনির মরদেহ ফ্রিডম স্কয়ারে রাখা হবে যাতে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর আগামী ৭ জুলাই তার কফিন পবিত্র শহর কোমে এবং ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নজফ শহরে নেওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ইরানের সামরিক ও আদর্শিক কাঠামো গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আধুনিক ভিসানীতির খসড়া প্রণয়ন

তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে খামেনির কফিন: শেষ শ্রদ্ধায় লাখো মানুষের ঢল

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন আজ সোমবার রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে। গতকাল রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর আজ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে লাখো ইরানি সমবেত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শোক প্রকাশ করছেন। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের কাছে এই আয়োজন কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং জাতীয় সংহতি প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। দীর্ঘ চার দশক ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার প্রতি জনগণের এই ভালোবাসা বহির্বিশ্বে একটি বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জনসমাগমের মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করতে চাইছে যে, সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া স্থিতিশীল রয়েছে। খামেনির মরদেহ ফ্রিডম স্কয়ারে রাখা হবে যাতে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর আগামী ৭ জুলাই তার কফিন পবিত্র শহর কোমে এবং ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নজফ শহরে নেওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ইরানের সামরিক ও আদর্শিক কাঠামো গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।