ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি স্মরণে ইরানের রাষ্ট্রীয় আয়োজন: প্রতিশোধের অঙ্গীকার ও ধারাবাহিকতা রক্ষার বার্তা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্মরণে রাজধানী তেহরানে বড় আকারের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জোরালো বার্তা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সি খামেনি নিহত হন, যিনি প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা স্মরণস্থলসহ বিভিন্ন গণসমাবেশে লাল পতাকা দেখা গেছে, যা শিয়া ইসলামে শাহাদাতের প্রতীক ও প্রতিশোধের চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে’। লাল ও কালো পটভূমিতে খামেনির একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি দিয়ে এই স্লোগান ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

শনিবার ভোররাত থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। খamেনির কফিনটি একটি লরিতে করে অনুষ্ঠানস্থলে আনা হয় এবং মঞ্চের মাঝখানে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মে কাচ দিয়ে ঘেরা অবস্থায় রাখা হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যরা কফিনটি পাহারা দিচ্ছেন। ইসলামি রীতিনীতি বজায় রাখতে পুরুষ ও নারী দর্শনার্থীদের মধ্যে একটি বড় ব্যারিয়ার দেওয়া হয়েছে। লাউডস্পিকারে ধর্মীয় গান ও স্লোগান প্রচার করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, মেট্রো স্টেশনগুলোতে জনতা ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরাইল ধ্বংস হোক’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। সমাবেশে আসা ফাতিমা (৫৫) নামের এক নারী আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা সবাই আমাদের নেতার রক্তঋণ শোধ ও প্রতিশোধ নিতে এখানে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই তার ছেলের কথা শুনব। তিনিই বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’ গত মার্চ মাসে খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয় একটি ধর্মীয় কাউন্সিল।

রাজধানীজুড়ে সাঁজোয়া যান, ভারী মেশিনগান ও স্নাইপারসহ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা গেছে। মোসাল্লায় প্রবেশের সময় পুরুষদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে এবং পাওয়ার ব্যাংক, ইয়ারফোন ও লাইটারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করছে নিরাপত্তা কর্মীরা। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের আচরণ ‘লজ্জাজনক’, ক্ষুব্ধ ফুটবল কিংবদন্তিরা

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি স্মরণে ইরানের রাষ্ট্রীয় আয়োজন: প্রতিশোধের অঙ্গীকার ও ধারাবাহিকতা রক্ষার বার্তা

আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্মরণে রাজধানী তেহরানে বড় আকারের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জোরালো বার্তা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সি খামেনি নিহত হন, যিনি প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা স্মরণস্থলসহ বিভিন্ন গণসমাবেশে লাল পতাকা দেখা গেছে, যা শিয়া ইসলামে শাহাদাতের প্রতীক ও প্রতিশোধের চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে’। লাল ও কালো পটভূমিতে খামেনির একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি দিয়ে এই স্লোগান ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

শনিবার ভোররাত থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। খamেনির কফিনটি একটি লরিতে করে অনুষ্ঠানস্থলে আনা হয় এবং মঞ্চের মাঝখানে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মে কাচ দিয়ে ঘেরা অবস্থায় রাখা হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যরা কফিনটি পাহারা দিচ্ছেন। ইসলামি রীতিনীতি বজায় রাখতে পুরুষ ও নারী দর্শনার্থীদের মধ্যে একটি বড় ব্যারিয়ার দেওয়া হয়েছে। লাউডস্পিকারে ধর্মীয় গান ও স্লোগান প্রচার করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, মেট্রো স্টেশনগুলোতে জনতা ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরাইল ধ্বংস হোক’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। সমাবেশে আসা ফাতিমা (৫৫) নামের এক নারী আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা সবাই আমাদের নেতার রক্তঋণ শোধ ও প্রতিশোধ নিতে এখানে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই তার ছেলের কথা শুনব। তিনিই বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’ গত মার্চ মাসে খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয় একটি ধর্মীয় কাউন্সিল।

রাজধানীজুড়ে সাঁজোয়া যান, ভারী মেশিনগান ও স্নাইপারসহ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা গেছে। মোসাল্লায় প্রবেশের সময় পুরুষদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে এবং পাওয়ার ব্যাংক, ইয়ারফোন ও লাইটারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করছে নিরাপত্তা কর্মীরা। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না বলে জানা গেছে।