ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সচিবালয়ের নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন: ৫ আগস্টের আগের ১৬৯ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে নতুন সরকার। দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে পদায়ন করা ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে তাদের স্থলে নিরাপত্তা যাচাই শেষে নতুন ও দক্ষ সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৮২ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, গেট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট আধুনিকায়নের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পরিবর্তন কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সচিবালয়ের নিরাপত্তাকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক করার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ।

গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পদায়ন পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ৫ আগস্টের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য এখনও একই দায়িত্বে রয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, সচিবালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বার, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংবেদনশীল দপ্তর এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসব সদস্যকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত নতুন সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতিনির্ধারণী বৈঠক এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীর যাতায়াতের কারণে সচিবালয়কে দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বদলি তালিকায় তিনজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট, পাঁচজন উপপরিদর্শক (এসআই), ১৬ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), ১২ জন নায়েক এবং ১৩২ জন কনস্টেবল রয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের আচরণ ‘লজ্জাজনক’, ক্ষুব্ধ ফুটবল কিংবদন্তিরা

সচিবালয়ের নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন: ৫ আগস্টের আগের ১৬৯ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১০:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে নতুন সরকার। দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে পদায়ন করা ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে তাদের স্থলে নিরাপত্তা যাচাই শেষে নতুন ও দক্ষ সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৮২ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, গেট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট আধুনিকায়নের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পরিবর্তন কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সচিবালয়ের নিরাপত্তাকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক করার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ।

গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পদায়ন পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ৫ আগস্টের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য এখনও একই দায়িত্বে রয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, সচিবালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বার, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংবেদনশীল দপ্তর এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসব সদস্যকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত নতুন সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতিনির্ধারণী বৈঠক এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীর যাতায়াতের কারণে সচিবালয়কে দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বদলি তালিকায় তিনজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট, পাঁচজন উপপরিদর্শক (এসআই), ১৬ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), ১২ জন নায়েক এবং ১৩২ জন কনস্টেবল রয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।