মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে, স্বল্প সময়ে তুলনামূলক বেশি ফলন পাওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে আধুনিক এই চাষাবাদে ঝুঁকছেন। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় কমছে, অন্যদিকে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
সরেজমিনে শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের জমিতে সুপরিকল্পিতভাবে সারি সারি বেড তৈরি করে সেগুলোকে বিশেষ ধরনের মালচিং পেপার (প্লাস্টিক শিট) দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে সেখানে বিভিন্ন সবজির বীজ বা চারা রোপণ করছেন। বর্তমানে শসা, করলা, মরিচ, লাউ, টমেটো, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দলসহ নানা ধরনের সবজি এই পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মালচিং মূলত চীন ও জাপানে বহুল প্রচলিত একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে জমির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, আগাছা জন্মাতে পারে না এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এর ফলে সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বহুলাংশে হ্রাস পায়, যা উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকদের লাভজনক করে তুলছে।
চাষিরা বলছেন, মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমবার বেড তৈরি করতে কিছুটা অতিরিক্ত খরচ হলেও, পরবর্তীতে একই বেডে তিন থেকে চার ধাপে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এছাড়া প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই ফসল বাজারে আনা যায়, যা কৃষকদের অতিরিক্ত লাভের সুযোগ করে দেয়।
কাদিরপুর এলাকার সফল কৃষক শাহিন মিয়া তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ইউটিউবে মালচিং পদ্ধতি দেখে তিনি প্রথমে এক বিঘা জমিতে শসা চাষ শুরু করেন। প্রথমবারেই প্রায় দেড়শ মণ শসা বিক্রি করে ভালো লাভ হয়। সেই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমানে তিনি ২০ বিঘা জমিতে শসা, করলা, মরিচ ও লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। কুতুবপুর ইউনিয়নের কৃষক শওকত গাছিও শখের বশে শুরু করে এখন উৎপাদন বৃদ্ধি ও অধিক লাভে সফল হয়েছেন, যা দেখে এলাকার অনেক শিক্ষিত যুবকও এই পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিবচরের প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে মালচিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সবজি চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে মরিচ, করলা ও শসা চাষে এই পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























