ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

দুধের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দুশ্চিন্তায় সিরাজগঞ্জের খামারিরা

গবাদি পশুর খাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি দুধের সংগ্রহ মূল্য। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের খামারিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মিল্কভিটা প্রতি লিটার দুধ ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় সংগ্রহ করছে, যা খামারিদের উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করা হচ্ছে।

খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল প্রায় ৪০০ টাকা, যা বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে ভুসি, খৈল, ভুট্টা, মাসকলাই, মসুর এবং বিভিন্ন ধরনের ফিডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অথচ দুধের দাম সেই তুলনায় বাড়েনি।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে গড়ে উঠেছে শত শত গরুর খামার। শাহজাদপুর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার খামার রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ লিটার দুধ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। মিল্কভিটার পাঁচ শতাধিক সমবায় সমিতির আওতায় প্রায় ২৫ হাজার সদস্য প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ লিটার দুধ সরবরাহ করেন। খামারিদের অভিযোগ, সমিতিভুক্ত হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে খোলা বাজারে প্রায় ৫৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করা সম্ভব।

শাহজাদপুরের খামারি মিজানুর রহমান মিন্টু ও মুকুল মোল্লার মতো অনেকেই খাদ্যের দাম বাড়া সত্ত্বেও দুধের দাম না বাড়ায় লোকসানের মুখে পড়ে গাভি পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন অবশ্য শুধু মিল্কভিটার ওপর নির্ভরশীল না থেকে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান ও কৃমিনাশক সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করার কথা উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের আচরণ ‘লজ্জাজনক’, ক্ষুব্ধ ফুটবল কিংবদন্তিরা

দুধের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দুশ্চিন্তায় সিরাজগঞ্জের খামারিরা

আপডেট সময় : ১০:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

গবাদি পশুর খাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি দুধের সংগ্রহ মূল্য। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের খামারিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মিল্কভিটা প্রতি লিটার দুধ ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় সংগ্রহ করছে, যা খামারিদের উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করা হচ্ছে।

খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল প্রায় ৪০০ টাকা, যা বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে ভুসি, খৈল, ভুট্টা, মাসকলাই, মসুর এবং বিভিন্ন ধরনের ফিডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অথচ দুধের দাম সেই তুলনায় বাড়েনি।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে গড়ে উঠেছে শত শত গরুর খামার। শাহজাদপুর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার খামার রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ লিটার দুধ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। মিল্কভিটার পাঁচ শতাধিক সমবায় সমিতির আওতায় প্রায় ২৫ হাজার সদস্য প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ লিটার দুধ সরবরাহ করেন। খামারিদের অভিযোগ, সমিতিভুক্ত হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে খোলা বাজারে প্রায় ৫৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করা সম্ভব।

শাহজাদপুরের খামারি মিজানুর রহমান মিন্টু ও মুকুল মোল্লার মতো অনেকেই খাদ্যের দাম বাড়া সত্ত্বেও দুধের দাম না বাড়ায় লোকসানের মুখে পড়ে গাভি পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন অবশ্য শুধু মিল্কভিটার ওপর নির্ভরশীল না থেকে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান ও কৃমিনাশক সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করার কথা উল্লেখ করেন।