কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দরবেশপাড়া বাজার এলাকায় অন্তত ৩৩টি অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রেখেই খাল খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে খালের জমি পুনরুদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশারীচোঁ থেকে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল প্রায় পাঁচ মাস আগে। উদ্বোধনের সময় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন খালের ওপর গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই খনন কাজে দরবেশ বাজার অংশে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ না করেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দরবেশ বাজারে খালের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ৩৩টি অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়নি। খালটির প্রস্থ কমপক্ষে ৩০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাজার অংশে কোথাও ১০ ফুট, আবার কোথাও ১৫ ফুট খনন করা হয়েছে, যা প্রকৃত পরিমাপের চেয়ে অনেক কম। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি দোকান থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে ছোট ভেকু ব্যবহার করে অবৈধ দোকানগুলো অক্ষত রেখেই মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি রিংকু বলেন, খালের বেশিরভাগ অংশে বাড়িঘর থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ করে খনন করা হয়েছে। কিন্তু বাজার অংশে এসে অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস জানান, তিনি যোগদানের পরই বিষয়টি শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এই প্রসঙ্গে বলেন, দেশব্যাপী চলমান নদী ও খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা রাখার কোনো সুযোগ নেই।
রিপোর্টারের নাম 























