গাজার খান ইউনিসের আল-কারারা এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের গোলাবর্ষণে নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনি ফুটবল গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার। বাড়ির জন্য রান্নার গ্যাস ভরতে সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু আর ফেরা হলো না। এই ঘটনা চলমান যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক নতুন শোকের অধ্যায় যুক্ত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বে আল-কারারা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ক্লাব খাদামাত খান ইউনিসের গোলরক্ষক আল-আশকার বাড়ির জন্য গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই সেখানে অবস্থানরত একটি ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে ভারী গোলাবর্ষণ শুরু হয়। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) তথ্য অনুযায়ী, আল-আশকারের পেটে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পাকস্থলী, অন্ত্র, যকৃত ও অগ্ন্যাশয়ের মারাত্মক ক্ষতির কারণে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি মারা যান।
৩২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক খাদামাত খান ইউনিস ছাড়াও আল-আকসা ও আল-মাসদার ক্লাবের হয়েও খেলেছেন। মাত্র পাঁচ মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তার স্ত্রী বর্তমানে তাদের প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে আল-আশকার রেখে গেছেন তার সাত বোনকেও।
তার মৃত্যুর খবরে ফিলিস্তিনসহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফিলিস্তিনি অভিবাসীদের প্রতিষ্ঠিত চিলির ক্লাব ডেপোর্তিভো প্যালেস্তিনো এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে এই ক্রীড়াবিদের প্রাণহানির ঘটনায় বিচার দাবি করেছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত এক হাজার নয়জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৬৭ জনই ফুটবলার। এর আগে গত আগস্টে মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে সুলেইমান আল-ওবেইদ নামের এক পরিচিত ফুটবলারও ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























