চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার ফরেস্ট গেট এলাকায় মো. আজাদ (২৫) নামে এক যুবককে পেছন থেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া নিহতের বন্ধু ইছা ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানান, জবানবন্দিতে ইছা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় নিহত আজাদসহ মোট তিনজন একসঙ্গে মাদক সেবন করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি হয়, যার এক পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে আজাদকে পেছন থেকে গুলি করা হয়।
ওসি আরও বলেন, ইছা স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, আজাদকে হত্যার মূল কারণ ছিল মাদকসংশ্লিষ্ট বিরোধ। গুলির ঘটনার পর তিনি নিজের পরনের কাপড়চোপড় লুকিয়ে রাখারও চেষ্টা করেন, যাতে আলামত নষ্ট করা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। এর আগে গত বুধবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বিকালে নগরীর ফরেস্ট গেট এলাকায় ব্যস্ত সড়কের এক পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মো. আজাদ। এ সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা তখন জানিয়েছিলেন, বিকাল ৪টার দিকে আহতাবস্থায় আজাদকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের ডান পাশে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার শুরুতে হত্যার কারণ স্পষ্ট ছিল না। তবে ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্তে হত্যার পেছনের কারণ হিসেবে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। নিহত আজাদ নগরীর হামজারবাগ এলাকার হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
রিপোর্টারের নাম 






















