ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

মাগুরায় অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ: ২০ পরিবারের সর্বনাশ করে উধাও দম্পতি, আত্মহত্যার চেষ্টা ভুক্তভোগীদের

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের রাজবংশী পাড়ায় এক ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। একই গ্রামের স্বরজিৎ রায় ও শিমু রায় দম্পতির বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই দম্পতি প্রায় তিন মাস ধরে এলাকা থেকে লাপাত্তা। প্রতারণার শিকার এসব পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। চরম ঋণগ্রস্ত হয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বরজিৎ ও শিমু রায় দম্পতি সুকৌশলে অন্তত ২০টি পরিবারের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে। তারা ঘাসিয়াড়া ব্যাপারিপাড়ার আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা, রাজবংশীপাড়ার স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা, শিফালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা, দিপালী বিশ্বাসের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা, ঝর্না বিশ্বাসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মিতা রানির কাছ থেকে দেড় ভরি স্বর্ণসহ মোট অর্ধকোটি টাকা ও বহু স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে।

শুধু সরাসরি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ নয়, এই দম্পতি স্থানীয় আশা, আদ দ্বীন, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম, বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতিসহ কয়েকটি এনজিও থেকে অসহায় মানুষদের নামে লোন করিয়ে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেছে। এনজিওগুলো এখন কিস্তি আদায়ে সমস্যায় পড়েছে, আর যাদের নামে লোন নেওয়া হয়েছে, সেই অসহায় পরিবারগুলো ঋণের ভারে জর্জরিত। দিপালী বিশ্বাস, ঝর্না বিশ্বাস ও মিতা রানির মতো অনেকেই এই ঋণের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম জানান, স্বরজিৎ রায় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে এবং টাকা চাইতে গেলে নানা তালবাহানা শুরু করে। পরে টাকা না দিয়েই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। দিপালী বিশ্বাস বলেন, স্বরজিৎ ও শিমু তাকে দিয়ে এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ করিয়ে নেয়, যা পরিশোধের কথা ছিল তাদেরই। কিন্তু তারা সেই টাকা পরিশোধ না করায় দিপালী এখন চরম বিপদে। এই দম্পতির প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো দ্রুত সুবিচার ও তাদের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপির দায়ে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী: আদালতের রায়ের পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

মাগুরায় অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ: ২০ পরিবারের সর্বনাশ করে উধাও দম্পতি, আত্মহত্যার চেষ্টা ভুক্তভোগীদের

আপডেট সময় : ০৬:২২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের রাজবংশী পাড়ায় এক ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। একই গ্রামের স্বরজিৎ রায় ও শিমু রায় দম্পতির বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই দম্পতি প্রায় তিন মাস ধরে এলাকা থেকে লাপাত্তা। প্রতারণার শিকার এসব পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। চরম ঋণগ্রস্ত হয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বরজিৎ ও শিমু রায় দম্পতি সুকৌশলে অন্তত ২০টি পরিবারের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে। তারা ঘাসিয়াড়া ব্যাপারিপাড়ার আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা, রাজবংশীপাড়ার স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা, শিফালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা, দিপালী বিশ্বাসের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা, ঝর্না বিশ্বাসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মিতা রানির কাছ থেকে দেড় ভরি স্বর্ণসহ মোট অর্ধকোটি টাকা ও বহু স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে।

শুধু সরাসরি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ নয়, এই দম্পতি স্থানীয় আশা, আদ দ্বীন, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম, বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতিসহ কয়েকটি এনজিও থেকে অসহায় মানুষদের নামে লোন করিয়ে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেছে। এনজিওগুলো এখন কিস্তি আদায়ে সমস্যায় পড়েছে, আর যাদের নামে লোন নেওয়া হয়েছে, সেই অসহায় পরিবারগুলো ঋণের ভারে জর্জরিত। দিপালী বিশ্বাস, ঝর্না বিশ্বাস ও মিতা রানির মতো অনেকেই এই ঋণের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম জানান, স্বরজিৎ রায় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে এবং টাকা চাইতে গেলে নানা তালবাহানা শুরু করে। পরে টাকা না দিয়েই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। দিপালী বিশ্বাস বলেন, স্বরজিৎ ও শিমু তাকে দিয়ে এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ করিয়ে নেয়, যা পরিশোধের কথা ছিল তাদেরই। কিন্তু তারা সেই টাকা পরিশোধ না করায় দিপালী এখন চরম বিপদে। এই দম্পতির প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো দ্রুত সুবিচার ও তাদের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।