ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়িতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে বয়স্কভাতা বন্ধ: কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্কভাতা কার্ড অন্য ব্যক্তিকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিব ওসমান আলী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রুহুল আমিন (প্রকাশ আমিন মিয়া) নামের ওই ব্যক্তি এই অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।

রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি নিয়মিত সরকারি বয়স্কভাতা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাচ্ছিলেন। কিন্তু গত ৯ মাস ধরে ভাতার টাকা না আসায় তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ২০২৪ সালে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যুকৃত ‘মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র’র ওপর ভিত্তি করে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তার বয়স্কভাতা কার্ডটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। মৃত্যু সনদের তথ্যানুযায়ী, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ওসমান আলী, ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মজিদ, জমিলা বেগম, মো. বেলাল হোসেন ও মর্জিনা বেগম এই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলী এ বিষয়ে বলেন, রুহুল আমিনকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনবার মৌখিক নোটিশ করা হয়েছিল। তিনি উপস্থিত না হওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাজসেবা দপ্তর থেকে প্রেরিত বয়স্কভাতাভোগী ব্যক্তির তালিকা প্রতিস্থাপনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে মৃত্যুর সনদ তৈরি করা হয়।

ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন এবং তার অজান্তেই সমাজসেবা কাজ করেছে। তবে ইতোমধ্যে রুহুল আমিনের বয়স্কভাতার পুনঃব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এলাকায় তাকে রুহুল আমিন নামে কেউ চেনে না, তিনি আমিন মিয়া নামেই পরিচিত।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হবে না। মাটিরাঙ্গা উপজেলা কর্মকর্তা উম্মে তাহমিন মিতুও একই কথা জানিয়ে বলেন, ভুক্তভোগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার তবলছড়ি ইউনিয়ন সচিব মো. ওসমান আলীসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালু: গ্রীষ্মের রুক্ষতায় এক পশলা সোনালি সৌন্দর্যের ছোঁয়া

খাগড়াছড়িতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে বয়স্কভাতা বন্ধ: কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০১:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্কভাতা কার্ড অন্য ব্যক্তিকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিব ওসমান আলী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রুহুল আমিন (প্রকাশ আমিন মিয়া) নামের ওই ব্যক্তি এই অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।

রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি নিয়মিত সরকারি বয়স্কভাতা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাচ্ছিলেন। কিন্তু গত ৯ মাস ধরে ভাতার টাকা না আসায় তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ২০২৪ সালে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যুকৃত ‘মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র’র ওপর ভিত্তি করে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তার বয়স্কভাতা কার্ডটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। মৃত্যু সনদের তথ্যানুযায়ী, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ওসমান আলী, ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মজিদ, জমিলা বেগম, মো. বেলাল হোসেন ও মর্জিনা বেগম এই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলী এ বিষয়ে বলেন, রুহুল আমিনকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনবার মৌখিক নোটিশ করা হয়েছিল। তিনি উপস্থিত না হওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাজসেবা দপ্তর থেকে প্রেরিত বয়স্কভাতাভোগী ব্যক্তির তালিকা প্রতিস্থাপনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে মৃত্যুর সনদ তৈরি করা হয়।

ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন এবং তার অজান্তেই সমাজসেবা কাজ করেছে। তবে ইতোমধ্যে রুহুল আমিনের বয়স্কভাতার পুনঃব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এলাকায় তাকে রুহুল আমিন নামে কেউ চেনে না, তিনি আমিন মিয়া নামেই পরিচিত।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হবে না। মাটিরাঙ্গা উপজেলা কর্মকর্তা উম্মে তাহমিন মিতুও একই কথা জানিয়ে বলেন, ভুক্তভোগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার তবলছড়ি ইউনিয়ন সচিব মো. ওসমান আলীসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।