ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই, শেষ হলো এক সৃজনশীল অধ্যায়ের

বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম জগতের এক কিংবদন্তি, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী, প্রখ্যাত চিত্রকর, পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা মনোয়ার ৯১ বছর বয়সে আজ, ২৯ জুন, রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান হিসেবে মুস্তাফা মনোয়ার শৈশব থেকেই শিল্পচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ভাষা আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের বিকাশে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতি হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের অগ্রদূত এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বহুল জনপ্রিয় চরিত্র ‘পারুল’-এর স্রষ্টা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘মনের কথা’ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানে পারুল ও বাউলের মজার গল্প এবং গরুর ‘হাম্বা’ ডাক শিশুদের মনে আজও অমলিন স্মৃতি হয়ে আছে।

তার প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানের পুরোনো ভিডিওর মন্তব্য ঘরে এসে এই গুণী ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করছেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন।

এছাড়াও, UNICEF-এর শিশু-কেন্দ্রিক উদ্যোগ ‘মীনা’র সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিশুদের মানসিক সাহস ও আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পাপেট শোর আয়োজন তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ৩ মে থেকে ১৯৯১ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গণমাধ্যম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং সৃজনশীল মানবসম্পদ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন তারকা সন্ধানে চুমকি ও রিচি: রিয়েলিটি শো’র বিচারকের আসনে দুই অভিনেত্রী

বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই, শেষ হলো এক সৃজনশীল অধ্যায়ের

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম জগতের এক কিংবদন্তি, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী, প্রখ্যাত চিত্রকর, পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা মনোয়ার ৯১ বছর বয়সে আজ, ২৯ জুন, রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান হিসেবে মুস্তাফা মনোয়ার শৈশব থেকেই শিল্পচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ভাষা আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের বিকাশে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতি হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের অগ্রদূত এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বহুল জনপ্রিয় চরিত্র ‘পারুল’-এর স্রষ্টা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘মনের কথা’ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানে পারুল ও বাউলের মজার গল্প এবং গরুর ‘হাম্বা’ ডাক শিশুদের মনে আজও অমলিন স্মৃতি হয়ে আছে।

তার প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানের পুরোনো ভিডিওর মন্তব্য ঘরে এসে এই গুণী ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করছেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন।

এছাড়াও, UNICEF-এর শিশু-কেন্দ্রিক উদ্যোগ ‘মীনা’র সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিশুদের মানসিক সাহস ও আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পাপেট শোর আয়োজন তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ৩ মে থেকে ১৯৯১ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গণমাধ্যম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং সৃজনশীল মানবসম্পদ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।