ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি, লা-নিনোর প্রভাবে বর্ষাজুড়ে ভ্যাপসা গরমের পূর্বাভাস

কয়েকদিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় জনজীবনে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানীতে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও লা-নিনোর প্রভাবে এবার পুরো বর্ষাকাল জুড়েই ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে, যা এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আগের দুইদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এরপর সোমবার থেকে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়, যা তাপপ্রবাহকে প্রশমিত করেছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ রেকর্ড করা হয়েছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে এনেছে। রাজধানীতে সোমবার ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় বৃষ্টির পর যখন রোদ ওঠে, তখন এই জলীয় বাষ্প দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে তৈরি হয় ভ্যাপসা গরম ও প্রচণ্ড ঘাম ঝরানো অস্বস্তিকর পরিবেশ। এছাড়া মৌসুমি বায়ু এখনো পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় উষ্ণ বৃষ্টি ঝরছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মৌসুমি বায়ুর চরিত্র কিছুটা বদলে গেছে। বর্ষাকালে এখন আগের মতো একটানা ঠান্ডা বৃষ্টি দেখা যায় না, বরং অনিয়মিত ও উষ্ণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা ভ্যাপসা গরমের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন তারকা সন্ধানে চুমকি ও রিচি: রিয়েলিটি শো’র বিচারকের আসনে দুই অভিনেত্রী

বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি, লা-নিনোর প্রভাবে বর্ষাজুড়ে ভ্যাপসা গরমের পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

কয়েকদিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় জনজীবনে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানীতে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও লা-নিনোর প্রভাবে এবার পুরো বর্ষাকাল জুড়েই ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে, যা এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আগের দুইদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এরপর সোমবার থেকে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়, যা তাপপ্রবাহকে প্রশমিত করেছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ রেকর্ড করা হয়েছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে এনেছে। রাজধানীতে সোমবার ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় বৃষ্টির পর যখন রোদ ওঠে, তখন এই জলীয় বাষ্প দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে তৈরি হয় ভ্যাপসা গরম ও প্রচণ্ড ঘাম ঝরানো অস্বস্তিকর পরিবেশ। এছাড়া মৌসুমি বায়ু এখনো পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় উষ্ণ বৃষ্টি ঝরছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মৌসুমি বায়ুর চরিত্র কিছুটা বদলে গেছে। বর্ষাকালে এখন আগের মতো একটানা ঠান্ডা বৃষ্টি দেখা যায় না, বরং অনিয়মিত ও উষ্ণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা ভ্যাপসা গরমের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।