হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ এনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বোকাভরা লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করার পর শুক্রবার এই হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো ড্রোন হামলার এটি একটি শক্তিশালী জবাব। এই ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে একটি একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) হামলাকারী ড্রোন একটি কার্গো জাহাজে আঘাত হানে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
হামলার ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম আরও জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর আগ্রাসন যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ইরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলেও দাবি করে তারা।
মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা সমন্বয় ও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দেয়। পরবর্তীতে গত ১৭ জুন উভয় দেশ ১৪ দফা সমঝোতায় সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বর্তমান হামলার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা আবারও শঙ্কায় পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















