চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন ধনিয়ালাপাড়ায় এবং জেলার রাউজানে ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মোট চার যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এই পৃথক দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নগরীর ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় নিহত দুই যুবক হলেন সাকিব (২৫) ও হৃদয় (২৪)। তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য তারা ভেতরে নামেন। ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের (বিষক্রিয়া) কারণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ডবলমুরিং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সেপটিক ট্যাংক থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে তৈরি হওয়া বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, চট্টগ্রামের রাউজানে নির্মাণাধীন একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আরও দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রাউজানের কচুখাইন এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ দাশ এবং পাশের বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল এলাকার বাসিন্দা সমীরণ দাশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিকুটি পাড়া এলাকায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়িতে কাজ চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ দাশ সেপটিক ট্যাংকে কাজ করার জন্য নিচে নামেন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করতে সমীরণ দাশ নিচে নামলে তিনিও গ্যাসে আক্রান্ত হন। একপর্যায়ে দুজনই ট্যাংকের ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস রাউজান স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন প্রদীপ দাস ও সমীরণ দাসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























