ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর গুইলারমো ওচোয়া ধীরপায়ে গোলপোস্টের কাছে এগিয়ে গেলেন। পরম মমতায় শেষবারের মতো চুমু খেলেন সেই পোস্টে, যা গত দুই দশক ধরে তিনি আগলে রেখেছেন। গ্যালারিভর্তি আশি হাজার দর্শকের ‘ওচোয়া! ওচোয়া!’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হচ্ছিল আজতেকা স্টেডিয়াম। কিংবদন্তি এই গোলরক্ষকের চোখে তখন আনন্দ আর বিষাদের অশ্রু। দুই দশকের দীর্ঘ পথচলা আর অগণিত স্মৃতির ইতি টেনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেক্সিকোর এই প্রাণপুরুষ।
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়টি মেক্সিকোর জন্য কেবল একটি জয় ছিল না, এটি ছিল একটি যুগের অবসান। ওচোয়া আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই বিশ্বকাপই হবে তার ক্যারিয়ারের ‘লাস্ট ড্যান্স’। ফিফার একটি অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, মেক্সিকো জাতীয় দলই ছিল তার জীবনের কম্পাস। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর থেকে এল ত্রির গোলপোস্টের নিচে ওচোয়া ছিলেন এক অদম্য প্রাচীর।
ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল রেকর্ড এখন ওচোয়ার দখলে। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে তার অবিশ্বাস্য সব সেভ আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। নেইমারদের গোলবঞ্চিত করে সেদিন তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। আজতেকার সেই সবুজ গালিচায় ওচোয়ার বিদায় মেক্সিকান ফুটবলের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।
রিপোর্টারের নাম 























