ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

নেইমারের প্রত্যাবর্তন সাফল্যমণ্ডিত: স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউট পর্বে ব্রাজিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

প্রায় দুই বছর পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে ফিরে এসেও নেইমার জুনিয়রকে ছাপিয়ে গেলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ম্যাথিউস কুনহা। তাদের জোড়া গোলের সুবাদে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে সেলেসাওদের এগিয়ে দেন। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে কাটিয়ে তিনি গোলটি করেন।

গোল করার পরও ব্রাজিলের আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান বাড়াতে কিছুটা সময় লাগে তাদের। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন ভিনিসিয়ুস। এই গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তার চতুর্থ গোল। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ব্রাজিল বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। বিশেষ করে স্কট ম্যাকটোমিনের বেশ কয়েকটি শট তিনি অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন। যখন স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজছিল, তখনই ম্যাচের ৬০ মিনিটে শেষ গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। ব্রুনো গুইমারেসের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে তিনি ব্যবধান ৩-০ করেন। আগের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করা কুনহার এটি ছিল টুর্নামেন্টে তৃতীয় গোল।

এরপরও ব্রাজিল আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তারা ৩-০ গোলের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। এই ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল নেইমারের মাঠে ফেরা। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর এই প্রথম জাতীয় দলের জার্সিতে খেললেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে জয় দিয়ে উদযাপন করল ব্রাজিল। পরিসংখ্যানেও ছিল ব্রাজিলের স্পষ্ট আধিপত্য। তারা ২১টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে স্কটল্যান্ড ৯টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রাখলেও অ্যালিসনের দৃঢ়তার সামনে গোল পেতে ব্যর্থ হয়। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ব্রাজিল নকআউট পর্বে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে স্কটল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পানির সংকট মেটাতে জাইকার দ্বারস্থ চট্টগ্রাম ওয়াসা: নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব

নেইমারের প্রত্যাবর্তন সাফল্যমণ্ডিত: স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউট পর্বে ব্রাজিল

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

প্রায় দুই বছর পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে ফিরে এসেও নেইমার জুনিয়রকে ছাপিয়ে গেলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ম্যাথিউস কুনহা। তাদের জোড়া গোলের সুবাদে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে সেলেসাওদের এগিয়ে দেন। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে কাটিয়ে তিনি গোলটি করেন।

গোল করার পরও ব্রাজিলের আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান বাড়াতে কিছুটা সময় লাগে তাদের। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন ভিনিসিয়ুস। এই গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তার চতুর্থ গোল। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ব্রাজিল বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। বিশেষ করে স্কট ম্যাকটোমিনের বেশ কয়েকটি শট তিনি অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন। যখন স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজছিল, তখনই ম্যাচের ৬০ মিনিটে শেষ গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। ব্রুনো গুইমারেসের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে তিনি ব্যবধান ৩-০ করেন। আগের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করা কুনহার এটি ছিল টুর্নামেন্টে তৃতীয় গোল।

এরপরও ব্রাজিল আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তারা ৩-০ গোলের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। এই ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল নেইমারের মাঠে ফেরা। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর এই প্রথম জাতীয় দলের জার্সিতে খেললেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে জয় দিয়ে উদযাপন করল ব্রাজিল। পরিসংখ্যানেও ছিল ব্রাজিলের স্পষ্ট আধিপত্য। তারা ২১টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে স্কটল্যান্ড ৯টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রাখলেও অ্যালিসনের দৃঢ়তার সামনে গোল পেতে ব্যর্থ হয়। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ব্রাজিল নকআউট পর্বে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে স্কটল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল।