ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে মাঠ ছেড়েছে ঘানা। ম্যাচ শেষে তারা ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে, এটিকেই বড় করে দেখা হলেও আলোচনা অন্য জায়গায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও আলোচনায় একটি পেনাল্টি, যেটি পেলে ৩ পয়েন্ট লেখা হতো দক্ষিণ আফ্রিকার দলটির নামের পাশে। তাই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি নিয়ে আলোচনা থামছে না। ঘানার দাবি, ম্যাচের শেষ দিকে তারা স্পষ্ট একটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর সে ক্ষোভ থেকেই ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য – ‘ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) হয়তো কফি খেতে গিয়েছিলেন।’
ম্যাচের শেষ দিকে ঘানার প্রিন্স কোয়াবেনা আদু বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়লে ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার এজরি কনসা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তবে রেফারি এ ঘটনা আমলে না নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, কনসা বল স্পর্শ না করে আদুর হাঁটুতে আঘাত করেছিলেন। ব্যাপারটি ভিএআরে গেলে হয়তো পেনাল্টি পেত ঘানা। এতেই চটেছেন ঘানার কোচ।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ লুকাননি কুইরোজ। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই বিশ্বকাপে ভিএআর এখনো কাজ করছে কি না। আমাদের কি এখনো ভিএআর আছে? এটা কি কাজ করছে? ঘানার পক্ষে পেনাল্টিটা দেওয়া উচিত ছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একেবারে পরিষ্কার পেনাল্টি। তারা ভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান।’
কুইরোজের মতে, ঘটনাটি শুধু পেনাল্টিই নয়; লাল কার্ডেরও দাবি রাখত। ব্যঙ্গমিশ্রিত কণ্ঠে ঘানার কোচ বলেন, ‘এটি ছিল পরিষ্কার পেনাল্টি, আর লাল কার্ডও। এ নিয়ে আপনাদের কোনো সন্দেহ আছে, নাকি শুধু আমিই এমনটা দেখেছি?’
তবে শুধু ঘানার কোচই নন, বিবিসির বিশ্লেষকরাও মনে করছেন ইংল্যান্ড ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ওয়েইন রুনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা পেনাল্টি। কনসা বিশাল ঝুঁকি নিয়েছে। সে বল নয়, খেলোয়াড়কে আঘাত করেছে। আমার দৃষ্টিতে এটি সহজেই পেনাল্টি দেওয়া যেত।’ সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডসও একই মত পোষণ করেন। তার ভাষায়, ‘অন্য কোনো দিনে এটি পেনাল্টি হতে পারত।’
প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, ভিএআর হস্তক্ষেপ করল না কেন? বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে ভিএআর ব্যবহারে কিছুটা ভিন্ন নীতি অনুসরণ করছে ফিফা। প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনার নির্দেশনায় মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্তে বেশি আস্থা রাখা হচ্ছে এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপের মাত্রা কমানো হয়েছে। ফলে অনেক ‘বর্ডারলাইন’ সিদ্ধান্ত রেফারির ওপরই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























