ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন: নেপথ্যে দিল্লির আধিপত্যবাদী নীতি ও ভূ-রাজনীতি

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লির আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিই প্রধান অন্তরায় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তার পেছনে তাদের নিজস্ব কৌশলগত ও নিরাপত্তা স্বার্থ নিহিত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের হাত থেকে পূর্ব অংশকে বিচ্ছিন্ন করা দিল্লির জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। ১৯৬২ সালে চীনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ভারত এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। চীনের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধে এই ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত করিডোরটি রক্ষা করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সামরিক ও বেসামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ট্রানজিট বা করিডোর সুবিধা পেতে ঢাকা ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে দিল্লি। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা ভারতের এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভারতের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দীর্ঘদিনের। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান দিল্লির পরিকল্পনাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছিল। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ভারতের একটি অলিখিত উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সরকারের ওপর দিল্লির নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিঘ্নিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি: রোনালদোর চোখে ‘যোগ্য কেবল মেসিই’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন: নেপথ্যে দিল্লির আধিপত্যবাদী নীতি ও ভূ-রাজনীতি

আপডেট সময় : ১০:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লির আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিই প্রধান অন্তরায় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তার পেছনে তাদের নিজস্ব কৌশলগত ও নিরাপত্তা স্বার্থ নিহিত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের হাত থেকে পূর্ব অংশকে বিচ্ছিন্ন করা দিল্লির জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। ১৯৬২ সালে চীনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ভারত এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। চীনের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধে এই ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত করিডোরটি রক্ষা করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সামরিক ও বেসামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ট্রানজিট বা করিডোর সুবিধা পেতে ঢাকা ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে দিল্লি। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা ভারতের এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভারতের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দীর্ঘদিনের। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান দিল্লির পরিকল্পনাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছিল। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ভারতের একটি অলিখিত উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সরকারের ওপর দিল্লির নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিঘ্নিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।