ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরাতে জাতিসংঘের জরুরি উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও)। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হলো।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান যে, ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র ও সামুদ্রিক শিল্পসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিবিড় সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে, যার ফলে হাজার হাজার নাবিক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েন।

তবে সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার এক দিনেই অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এতসংখ্যক জাহাজ চলাচলের ঘটনা ছিল বিরল। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে থাকা নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছিল এবং এখন ধাপে ধাপে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আশা করছে, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি: রোনালদোর চোখে ‘যোগ্য কেবল মেসিই’

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরাতে জাতিসংঘের জরুরি উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:০০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও)। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হলো।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান যে, ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র ও সামুদ্রিক শিল্পসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিবিড় সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে, যার ফলে হাজার হাজার নাবিক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েন।

তবে সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার এক দিনেই অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এতসংখ্যক জাহাজ চলাচলের ঘটনা ছিল বিরল। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে থাকা নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছিল এবং এখন ধাপে ধাপে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আশা করছে, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।