ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর ঘটনা: সেনা সদস্যের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সে সময়ের র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালকের ‘রানার’ এবং সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। তিনি সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে কীভাবে গুম করা হয়েছিল, তার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র‍্যাব সদর দপ্তরে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি তৎকালীন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স পরিচালক জিয়াউল আহসানের ‘রানার’ হিসেবে নিয়োগ পান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইমরুল বলেন, “২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ ও সাইফ স্যারসহ আমরা মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যাই। কাকে গাড়িতে তোলা হবে তা আমি জানতাম না। তবে গাড়িতে বসে জিয়াউল স্যার বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে ‘টার্গেট কখন আসবেন’ সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে জানা যায় টার্গেট আসবেন না। পরে স্যারকে বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন আমি ৯ দিনের ছুটিতে বাড়ি যাই।”

তিনি আরও বলেন, “ছুটিতে থাকাকালে ১৮ এপ্রিল জানতে পারি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর দেখি পুরো র‍্যাব সদর দপ্তরে থমথমে পরিবেশ। একদিন জিয়াউল স্যার ফোনে কথা বলছিলেন। এর মধ্যে তার আরেকটি ফোনে কল আসে। তখন তিনি পাশের লোকটিকে বলেন— ‘তুই রাখ। তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন’।” সেনা সদস্য ইমরুল ট্রাইব্যুনালকে বলেন, “ফোনে তারিক স্যারের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার একপর্যায়ে জিয়াউল স্যার…”। তার এই সাক্ষ্য ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় নতুন মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর ঘটনা: সেনা সদস্যের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সে সময়ের র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালকের ‘রানার’ এবং সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। তিনি সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে কীভাবে গুম করা হয়েছিল, তার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র‍্যাব সদর দপ্তরে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি তৎকালীন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স পরিচালক জিয়াউল আহসানের ‘রানার’ হিসেবে নিয়োগ পান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইমরুল বলেন, “২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ ও সাইফ স্যারসহ আমরা মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যাই। কাকে গাড়িতে তোলা হবে তা আমি জানতাম না। তবে গাড়িতে বসে জিয়াউল স্যার বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে ‘টার্গেট কখন আসবেন’ সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে জানা যায় টার্গেট আসবেন না। পরে স্যারকে বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন আমি ৯ দিনের ছুটিতে বাড়ি যাই।”

তিনি আরও বলেন, “ছুটিতে থাকাকালে ১৮ এপ্রিল জানতে পারি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর দেখি পুরো র‍্যাব সদর দপ্তরে থমথমে পরিবেশ। একদিন জিয়াউল স্যার ফোনে কথা বলছিলেন। এর মধ্যে তার আরেকটি ফোনে কল আসে। তখন তিনি পাশের লোকটিকে বলেন— ‘তুই রাখ। তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন’।” সেনা সদস্য ইমরুল ট্রাইব্যুনালকে বলেন, “ফোনে তারিক স্যারের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার একপর্যায়ে জিয়াউল স্যার…”। তার এই সাক্ষ্য ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় নতুন মাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে।