সিলেটের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত অনিয়ম দূর করে মাজার, মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের এই বলিষ্ঠ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে বিভিন্ন মহলে, বিশেষ করে আলেম সমাজ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, শাহজালাল মাজারকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ‘ডেগ ব্যবসা’ পরিচালিত হয়ে আসছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মাজার জিয়ারতের স্থান, সেখানে শায়িত কোনো অলির অর্থের প্রয়োজন নেই। বরং মানুষ মাজারে অর্থ দান করার পরিবর্তে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মাজারে কুমির, ডেগ, চাদর বা কলসিতে মানত ও আশা পূরণের উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে জিয়ারতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক মাওলানা রুহুল আমিন সাদী (সাইমুম সাদী) জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে ভক্তদের দেওয়া দান-সদকার অর্থ মুতাওয়াল্লিরা বংশপরম্পরায় ভোগ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে গেলে কিছু প্রতিক্রিয়া আসা স্বাভাবিক। তবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সিলেট হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম জালালি বলেছেন, দানবাক্স স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি, বরং হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্য নেই; বরং মাজার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, মাজার ও মাদরাসা—উভয় প্রতিষ্ঠানই শাহজালাল দরগাহকেন্দ্রিক হওয়ায় সেগুলোর সুবিধা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সবার জন্য উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ হওয়া উচিত।
রিপোর্টারের নাম 





















