রংপুরের মাহিগঞ্জ থানাধীন বড় দরগাহাট এলাকায় এক চালককে জিম্মি করে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকার জমির বায়না দলিল ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একঝাঁক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী আলাল হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি, অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর ভয় এবং ‘রোলার দিয়ে পিষে মারার’ হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলাল হোসেন বাদী হয়ে মাহিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ঘটনার মূল অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি সামছুল আলম ওরফে কোপা শামছু, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল ইসলাম রনি, রংপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য তুহিন, কল্যাণী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল রানা, ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী এবং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য জুয়েল। এছাড়াও শামীম, শরীফুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সৌরভ নামের আরও কয়েকজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহিগঞ্জ বড়দরগা হাটসংলগ্ন এলাকার চালক আলাল হোসেন, কাউনিয়া গোড়াই এলাকার মৃত মন্টু মিয়ার ছেলে ফুল মিয়ার (৪১) মালিকানাধীন সাড়ে তিন শতক জমি কেনার জন্য গত ২১ জুন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি চুক্তিনামা সম্পাদন করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে বিক্রেতা ফুল মিয়া উল্টো অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। আলাল অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা হয়। শর্ত ছিল ফুল মিয়া অন্যত্র জমি বিক্রি করে আলালের বায়নাকৃত পুরো টাকা ফেরত দেবেন। পরবর্তীকালে ফুল মিয়া জমিটি গোপনে অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা চালালে ১৯ মে পীরগাছায় সাব-রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি জানান আলাল। রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জমির রেজিস্ট্রি কার্যক্রম স্থগিত করেন। সে সময় সেখানে বিএনপি নেতা শামছুল ও ছাত্রদল নেতা রনি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯ মে রাতে নগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
রিপোর্টারের নাম 




















