ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ধোঁকাবাজির বাজেট’ আখ্যা, কৃষি খাতের জন্য বিশেষ সুপারিশ

দেশের শীর্ষ কৃষিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত বাজেটকে কৃষি খাতের জন্য যথেষ্ট সাহসী নয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং এটিকে ‘ধোঁকাবাজির বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও বাজেটে কৃষি খাতের জন্য কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য এটি যথেষ্ট নয় বলে তারা মনে করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে এগ্রিকালচারিস্টস্ ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: প্রসঙ্গ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের নীতি, অগ্রাধিকার এবং বরাদ্দ নিয়ে ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন। কৃষির টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সুপারিশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ ড. এটিএম মাহবুব-ই-ইলাহী তাওহীদ। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াছ মোল্লা। এছাড়াও, একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ সফিউল্লাহ, সাবেক সচিব নুরুল আলম, সাবেক সচিব ড. শরীফুল আলম জিন্নাহ, কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি আহসানুজ্জামান লিন্টু, পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ দেওয়ান আলী হায়দার আলমগীর, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফজলুল হক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোশাররফ হোসেন, এএফবির উপদেষ্টা কৃষিবিদ গোলাম রাব্বানী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. আব্দুর জব্বার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. মো. সফিউদ্দিন এবং এএফবির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফউদ্দিন আহমদ ও যুগ্ম মহাসচিব ডা. মো. শহীদুল্লাহ শরীফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান।

আলোচনায় কৃষি খাতের বর্তমান অবস্থা, বাজেট বরাদ্দের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অবদান অপরিসীম। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রয়োজন। বাজেটে কর ও শুল্ক ছাড়, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তারা জোর দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে টালবাহানা নয়: এমপি সাঈদ আল নোমান

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ধোঁকাবাজির বাজেট’ আখ্যা, কৃষি খাতের জন্য বিশেষ সুপারিশ

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দেশের শীর্ষ কৃষিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত বাজেটকে কৃষি খাতের জন্য যথেষ্ট সাহসী নয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং এটিকে ‘ধোঁকাবাজির বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও বাজেটে কৃষি খাতের জন্য কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য এটি যথেষ্ট নয় বলে তারা মনে করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে এগ্রিকালচারিস্টস্ ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: প্রসঙ্গ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের নীতি, অগ্রাধিকার এবং বরাদ্দ নিয়ে ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন। কৃষির টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সুপারিশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ ড. এটিএম মাহবুব-ই-ইলাহী তাওহীদ। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াছ মোল্লা। এছাড়াও, একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ সফিউল্লাহ, সাবেক সচিব নুরুল আলম, সাবেক সচিব ড. শরীফুল আলম জিন্নাহ, কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি আহসানুজ্জামান লিন্টু, পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ দেওয়ান আলী হায়দার আলমগীর, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফজলুল হক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোশাররফ হোসেন, এএফবির উপদেষ্টা কৃষিবিদ গোলাম রাব্বানী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. আব্দুর জব্বার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. মো. সফিউদ্দিন এবং এএফবির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফউদ্দিন আহমদ ও যুগ্ম মহাসচিব ডা. মো. শহীদুল্লাহ শরীফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান।

আলোচনায় কৃষি খাতের বর্তমান অবস্থা, বাজেট বরাদ্দের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষির অবদান অপরিসীম। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রয়োজন। বাজেটে কর ও শুল্ক ছাড়, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তারা জোর দেন।