ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যাকে অনেকেই কেবল একটি যৌন জটিলতা হিসেবে দেখেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ডিমেনশিয়ার মতো মারাত্মক রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। পুরুষাঙ্গকে একজন পুরুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পরিমাপক হিসেবে গণ্য করা হয়। ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের অর্ধেকেরও বেশি এই সমস্যায় আক্রান্ত হলেও লোকলজ্জা ও অনীহার কারণে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করে দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যায় ভোগা পুরুষদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ বেশি। চিকিৎসকদের মতে, লিঙ্গের ধমনীগুলো শরীরের সবচেয়ে ছোট ধমনীগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় রক্তনালি শক্ত ও সরু হয়ে যাওয়ার (অ্যাথেরোসক্লেরোসিস) প্রভাব এখানে প্রথমেই পড়ে। যুক্তরাজ্যের প্রজনন বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মাইকেল ক্যারল বলেন, একটি ভালো লিঙ্গোত্থান রক্তনালির স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তাইওয়ানের একটি গবেষণায় আরও দেখা গেছে, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যায় ভোগা পুরুষদের পরবর্তী সাত বছরে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৬৮ শতাংশ বেশি থাকে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও জোরালো। টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা প্রায় তিন গুণ বেশি। রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে রক্তনালি তার স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং লিঙ্গের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্পেনের সান্ত পাউ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক বোগদান ভ্লাচো জানান, ডায়াবেটিস ও লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা উভয়ই থাকলে হাত-পায়ের স্নায়ুর ক্ষতি (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি) এবং অন্ধত্বের (রেটিনোপ্যাথি) ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
তবে, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা সব সময় শারীরিক কারণে হয় না, অনেক সময় এটি মনস্তাত্ত্বিকও হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীর থেকে নিঃসৃত হরমোন রক্তনালিকে সংকুচিত করে ফেলে, যা রক্তপ্রবাহে বাধা দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদনেও বাধা সৃষ্টি করে, যা যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। মদ্যপান, ধূমপান এবং অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের মতো অভ্যাসগুলোও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























