ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ভবন সংকটে সন্দ্বীপের সাত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, শিশুরা ঝুঁকিতে

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরম সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শুরু হওয়া খনন কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ায়, বিদ্যালয়গুলোর মাঠ এখন বিপজ্জনক জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নতুন ভবনের অভাবে, মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে এখানকার শিক্ষার্থীরা টিনের একচালা ঘর বা ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার শেল্টার প্রজেক্ট’ (এমডিএসপি)-এর অধীনে প্রায় ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির দায়িত্ব ‘দুর্যোগ প্রশমন ও টেকসই পুনরুদ্ধার’ বি-স্ট্রং প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এলজিইডি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৯ মার্চ ভবনগুলোর নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ভবনের কাজই বুঝিয়ে দিতে পারেনি। নথিপত্র অনুযায়ী, কয়েকটি ভবনের সামান্য কাজ হওয়ার পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্তোষপুর ইউনিয়নের দ্বীপবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশ খনন করায় তা এখন গভীর জলাশয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে আরসিসি খুঁটি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ছয় বছর ধরে অস্থায়ী টিনের চালার নিচে ক্লাস চলছে এবং তীব্র গরমে অনেক শিশু শ্রেণিকক্ষেই অচেতন হয়ে পড়েছিল। কালাপানিয়া জগৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুছাপুর তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে একচালা টিনের ঘরে কোনোমতে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

ভবন সংকটে সন্দ্বীপের সাত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, শিশুরা ঝুঁকিতে

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরম সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শুরু হওয়া খনন কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ায়, বিদ্যালয়গুলোর মাঠ এখন বিপজ্জনক জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নতুন ভবনের অভাবে, মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে এখানকার শিক্ষার্থীরা টিনের একচালা ঘর বা ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার শেল্টার প্রজেক্ট’ (এমডিএসপি)-এর অধীনে প্রায় ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির দায়িত্ব ‘দুর্যোগ প্রশমন ও টেকসই পুনরুদ্ধার’ বি-স্ট্রং প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এলজিইডি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৯ মার্চ ভবনগুলোর নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ভবনের কাজই বুঝিয়ে দিতে পারেনি। নথিপত্র অনুযায়ী, কয়েকটি ভবনের সামান্য কাজ হওয়ার পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্তোষপুর ইউনিয়নের দ্বীপবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশ খনন করায় তা এখন গভীর জলাশয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে আরসিসি খুঁটি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ছয় বছর ধরে অস্থায়ী টিনের চালার নিচে ক্লাস চলছে এবং তীব্র গরমে অনেক শিশু শ্রেণিকক্ষেই অচেতন হয়ে পড়েছিল। কালাপানিয়া জগৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুছাপুর তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে একচালা টিনের ঘরে কোনোমতে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।