ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বর্ষায় সুস্থ থাকতে নারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি ও পরামর্শ

বর্ষাকাল একদিকে যেমন প্রকৃতির জন্য স্বস্তিদায়ক, তেমনি অন্যদিকে এটি স্বাস্থ্যের জন্য নানা ঝুঁকিও বয়ে আনে। বিশেষ করে নারীরা এ সময়ে সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ত্বকের সংক্রমণ, প্রস্রাবের সংক্রমণ, ছত্রাকজনিত রোগ, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ এবং পুষ্টিজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হতে পারেন। তাই বর্ষাকালে নারীদের প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা ও স্বাস্থ্যচর্চা।

দিনের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে এক থেকে দুই গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত, যা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় পুষ্টিকর খাবার যেমন ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার রাখা আবশ্যক। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন আমলকী, পেয়ারা, মাল্টা ও লেবু বর্ষাকালে অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া, মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কর্মস্থল বা বাইরে যাওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। বৃষ্টিতে ভিজলে ভেজা কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা এড়িয়ে চলুন এবং দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে অতিরিক্ত কাপড়, ওড়না বা স্কার্ফ সঙ্গে রাখুন। পা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি ও দুর্গন্ধ হতে পারে, তাই বাইরে থেকে ফিরে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকনো রাখা উচিত। বর্ষাকালে খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাইরের খোলা খাবার, কাটা ফল, অপরিষ্কার শরবত বা দূষিত পানি পরিহার করা জরুরি।

দুপুরের খাবারে ভাত, মাছ, ডাল, শাকসবজি ও সালাদের সমন্বয় থাকা উচিত। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে হজমজনিত সমস্যা কম হয়। খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন, কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

বিকালবেলায় অনেকে বর্ষাকালে ঘরে বেশি সময় কাটান, ফলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে। ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত করা উচিত, কারণ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক ও জীবাণুর বৃদ্ধি বেশি হয়, যা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদ ও মঙ্গলে দ্রুত অভিযানের জন্য নতুন রোভার পরীক্ষা করছে নাসা

বর্ষায় সুস্থ থাকতে নারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি ও পরামর্শ

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বর্ষাকাল একদিকে যেমন প্রকৃতির জন্য স্বস্তিদায়ক, তেমনি অন্যদিকে এটি স্বাস্থ্যের জন্য নানা ঝুঁকিও বয়ে আনে। বিশেষ করে নারীরা এ সময়ে সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ত্বকের সংক্রমণ, প্রস্রাবের সংক্রমণ, ছত্রাকজনিত রোগ, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ এবং পুষ্টিজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হতে পারেন। তাই বর্ষাকালে নারীদের প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা ও স্বাস্থ্যচর্চা।

দিনের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে এক থেকে দুই গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত, যা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় পুষ্টিকর খাবার যেমন ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার রাখা আবশ্যক। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন আমলকী, পেয়ারা, মাল্টা ও লেবু বর্ষাকালে অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া, মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কর্মস্থল বা বাইরে যাওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। বৃষ্টিতে ভিজলে ভেজা কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা এড়িয়ে চলুন এবং দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে অতিরিক্ত কাপড়, ওড়না বা স্কার্ফ সঙ্গে রাখুন। পা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি ও দুর্গন্ধ হতে পারে, তাই বাইরে থেকে ফিরে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকনো রাখা উচিত। বর্ষাকালে খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাইরের খোলা খাবার, কাটা ফল, অপরিষ্কার শরবত বা দূষিত পানি পরিহার করা জরুরি।

দুপুরের খাবারে ভাত, মাছ, ডাল, শাকসবজি ও সালাদের সমন্বয় থাকা উচিত। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে হজমজনিত সমস্যা কম হয়। খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন, কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

বিকালবেলায় অনেকে বর্ষাকালে ঘরে বেশি সময় কাটান, ফলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে। ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত করা উচিত, কারণ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক ও জীবাণুর বৃদ্ধি বেশি হয়, যা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।