বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য মালদ্বীপ। নীল সমুদ্র, প্রবাল দ্বীপ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কারণে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো পর্যটক ছুটে আসেন এই দ্বীপরাষ্ট্রে। সেই আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মোশারফ হোসেন সাগর।
বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার সন্তান মোশারফ হোসেন সাগর বর্তমানে মালদ্বীপের একটি সাফারি বোটে কোর্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ আট বছরের প্রবাসজীবনে ধাপে ধাপে নিজেকে গড়ে তুলে তিনি আজ সামুদ্রিক পর্যটন খাতের একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সাধারণ কর্মী থেকে আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে
জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান মোশারফ হোসেন সাগর। প্রবাসজীবনের শুরুটা ছিল অনেকটা সাধারণ কর্মীর মতোই। তবে শুরু থেকেই তিনি নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেন।
পর্যটন ও ডাইভিং খাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত কোর্স সম্পন্ন করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ২০২৪ সালে স্কুবা ডাইভার হিসেবে পেশাগত যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু করেন।
এরপর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সাফারি বোটে কোর্স ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে সমুদ্রের গভীরে ডাইভিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং তাদের নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
মালদ্বীপের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পর্যটন শিল্প। বিশেষ করে সামুদ্রিক পর্যটন এবং ডাইভিং কার্যক্রম এই শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি রিক্রিয়েশনাল ডাইভার এবং প্রায় ৪০০ জন টেকনিক্যাল ডাইভার বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে শত শত প্রশিক্ষিত ইনস্ট্রাক্টর ও ডাইভিং বিশেষজ্ঞ প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।
এ ছাড়া মালদ্বীপজুড়ে ৫২টিরও বেশি সাফারি বোট এবং শত শত ছোট-বড় পর্যটন নৌযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা। তাদের মধ্যেই একজন বাংলাদেশি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন মোশারফ হোসেন সাগর।
দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত
নিজের অর্জন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মোশারফ হোসেন সাগর বলেন, “মালদ্বীপের সামুদ্রিক পর্যটন খাতে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। পর্যটকদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে দক্ষ ডাইভার, প্রশিক্ষিত ইনস্ট্রাক্টর এবং দায়িত্বশীল পরিচালনার বিকল্প নেই।”
তিনি বলেন, “আমি গর্বিত যে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি দেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও আরও ভালোভাবে কাজ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”
প্রবাসীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম
মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা মনে করেন, মোশারফ হোসেন সাগরের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সফলতা নয়; এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্ভাবনারও প্রতিচ্ছবি।
তাদের মতে, বিদেশের মাটিতে দক্ষতা, সততা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছেন। মোশারফের সাফল্য তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসী কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্বে দক্ষ জনশক্তিই সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই দক্ষতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এমন মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, ততই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
মালদ্বীপের সামুদ্রিক পর্যটন খাতে মোশারফ হোসেন সাগরের এই সাফল্যের গল্প তাই শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশিদের সক্ষমতা, অধ্যবসায় ও সম্ভাবনারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
রিপোর্টারের নাম 

























