রাজশাহীতে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনাক্ত হওয়া ১৩৯ জন রোগীর মধ্যে ৯২ জনই সমকামী, যা মোট আক্রান্তের ৬৬.১৮ শতাংশ। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সমকামিতা, অবাধ যৌনাচার এবং এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা মহামারিতে রূপ নিতে পারে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৮৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১০৫ জন, নারী ৯ জন এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন। আক্রান্তদের মধ্যে বিবাহিত ৪৮ জন এবং অবিবাহিত ৬৭ জন। বয়সের হিসাবে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ জন এবং ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সি ৮০ জন। এছাড়াও, চারজন প্রবাসফেরত ব্যক্তিও এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন।
শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৮ জন সমকামী, ৩৫ জন যৌনকর্মীর সংস্পর্শে এসেছেন, দুজন টিবি রোগে আক্রান্ত, একজন যৌনকর্মী, দুজন হিজড়া এবং ১৪ জন সাধারণ ব্যক্তি। অন্যদিকে, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রামেক হাসপাতালের দেওয়া তথ্যের বাইরে আরও ৩৪ জন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের প্রত্যেকেই সমকামী। এদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং তিনজন হিজড়া সম্প্রদায়ের। এদের মধ্যে ৬ জন অবিবাহিত এবং ২৫ জন বিবাহিত। বয়সের দিক থেকে, ২৫ বছরের কম বয়সি নয়জন এবং ২৫ বছরের বেশি বয়সি ২৫ জন।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭৯৪ জন। এর মধ্যে বগুড়ায় ১০৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২১ জন, জয়পুরহাটে ৩৭ জন, নওগাঁয় ৬৫ জন, নাটোরে ৪৩ জন, পাবনায় ৭৮ জন, রাজশাহীতে ১৩১ জন এবং সিরাজগঞ্জে রেকর্ড সংখ্যক ৩১০ জন আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাজশাহীতে নির্জন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে নিয়মিত রাতে সমকামীদের জলসা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নগরীর সি অ্যান্ড বি মোড় (শিমলা), কোর্ট স্টেশন, ডিঙা ডোবা, ফুলতলা (পদ্মার পাড়) সহ বিভিন্ন স্থানে এই নিষিদ্ধ কার্যকলাপ অবাধে চলছে। এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে একটি চক্র নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে সমকামিতা প্রসারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে, এই ধরনের নিষিদ্ধ কাজে খোলামেলা তৎপরতা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। একই সঙ্গে, ঝুঁকিপূর্ণ অবাধ যৌনাচার বৃদ্ধির ফলে একজন থেকে সহজে অন্যজনে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
রিপোর্টারের নাম 




















