ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

জলাবদ্ধতা নিরসনের চক্রেই আটকে ঢাকা, খোঁড়াখুঁড়ি বাড়লেও কমছে না ভোগান্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বর্ষা এলেই রাজধানী ঢাকার পরিচিত দৃশ্য—সড়কে জমে থাকা পানি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট আর নাগরিক দুর্ভোগ। বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে নানা পরিকল্পনা, প্রকল্প ও খোঁড়াখুঁড়ি চললেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। বরং বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নতুন করে শুরু হয় ‘হটস্পট’ চিহ্নিতকরণ, ড্রেন সংস্কার ও খাল খননের কর্মযজ্ঞ। ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বাড়ে জনভোগান্তিও।

এবারও রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে জলাবদ্ধতার জন্য ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এসব এলাকায় নতুন করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রতি বছর একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।

জলাবদ্ধতার পুরোনো সমস্যা, নতুন ভোগান্তি

নগরবাসীর অভিযোগ, বর্ষা শুরু হওয়ার পরপরই জলাবদ্ধতা নিরসনের তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয় না। ফলে প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-জলাশয় দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলিয়ে ঢাকার জলাবদ্ধতা দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে।

মাত্র চারটি আউটলেটেই ভরসা

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, প্রায় ১০৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত দক্ষিণ সিটিতে দেড় কোটির বেশি মানুষের বসবাস। অথচ পুরো এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর রয়েছে মাত্র চারটি প্রধান আউটলেট।

মালিবাগ, শান্তিনগর, পল্টন ও মতিঝিল এলাকার পানি টিটিপাড়া পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হয়। পুরান ঢাকা, আজিমপুর, গুলিস্তান ও হাজারীবাগ এলাকার পানি ধোলাইখাল হয়ে বুড়িগঙ্গায় পড়ে। গ্রিন রোড ও পান্থপথ এলাকার পানি হাতিরঝিল হয়ে রামপুরা পাম্প স্টেশনে যায়। আর যাত্রাবাড়ী ও ডিএনডি এলাকার কিছু অংশের পানি শিমরাইল পাম্প স্টেশন হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরের জন্য এই চারটি আউটলেট মোটেও যথেষ্ট নয়। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

বাড়ছে তীব্র বৃষ্টিপাত

ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১৯৫৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২ হাজার ১৮ মিলিমিটার হলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্প সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে একদিনে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র তিনবার। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে তিনবার। ফলে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাড়তি চাপ সামলাতে পারছে না।

২৯টি জলাবদ্ধতার হটস্পট

ডিএসসিসির চিহ্নিত জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন, মালিবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, কমলাপুর, পল্টন, ফকিরাপুল, শান্তিবাগ, জুরাইন ও সায়েদাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি এলাকা।

প্রতিবছর এসব এলাকায় পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন ধাপের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় ড্রেন, নর্দমা ও খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ, জরুরি পাম্প ব্যবহার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় খাল পুনরুদ্ধার, নতুন আউটলেট নির্মাণ, ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পাম্প স্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ৮৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কালুনগর, জিরানী, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় ২০ কিলোমিটারের বেশি খাল খনন ও স্লাজ অপসারণের কাজ চলবে।

নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে আরও আটটি নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব আউটলেট চালু হলে নিউমার্কেট, আজিমপুর, গুলিস্তান, ফকিরাপুল, মগবাজার, মালিবাগ ও শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে বলে আশা করছে ডিএসসিসি।

তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে কয়েক হাজার কোটি টাকা এবং দীর্ঘ সময়।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। কয়েক বছর আগে ড্রেন সংস্কারের কাজ হয়েছিল, কিন্তু এখনো সামান্য বৃষ্টিতেই মার্কেট এলাকায় পানি জমে যায়। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়।”

তার মতে, শুধু খোঁড়াখুঁড়ি নয়, স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

স্থায়ী সমাধান কবে?

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফলে শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা পাম্প বসিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি জানান, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের অর্থায়ন প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় হলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।

তবে নগরবাসীর প্রশ্ন একটাই—প্রতি বছর একই প্রতিশ্রুতি আর একই খোঁড়াখুঁড়ির পরও রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে মিলবে? বর্ষা এলেই পানির নিচে ডুবে যাওয়া ঢাকা কি আদৌ এই দুর্ভোগের চক্র থেকে বের হতে পারবে?

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি

জলাবদ্ধতা নিরসনের চক্রেই আটকে ঢাকা, খোঁড়াখুঁড়ি বাড়লেও কমছে না ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৪:১৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বর্ষা এলেই রাজধানী ঢাকার পরিচিত দৃশ্য—সড়কে জমে থাকা পানি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট আর নাগরিক দুর্ভোগ। বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে নানা পরিকল্পনা, প্রকল্প ও খোঁড়াখুঁড়ি চললেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। বরং বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নতুন করে শুরু হয় ‘হটস্পট’ চিহ্নিতকরণ, ড্রেন সংস্কার ও খাল খননের কর্মযজ্ঞ। ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বাড়ে জনভোগান্তিও।

এবারও রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে জলাবদ্ধতার জন্য ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এসব এলাকায় নতুন করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রতি বছর একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।

জলাবদ্ধতার পুরোনো সমস্যা, নতুন ভোগান্তি

নগরবাসীর অভিযোগ, বর্ষা শুরু হওয়ার পরপরই জলাবদ্ধতা নিরসনের তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয় না। ফলে প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-জলাশয় দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলিয়ে ঢাকার জলাবদ্ধতা দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে।

মাত্র চারটি আউটলেটেই ভরসা

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, প্রায় ১০৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত দক্ষিণ সিটিতে দেড় কোটির বেশি মানুষের বসবাস। অথচ পুরো এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর রয়েছে মাত্র চারটি প্রধান আউটলেট।

মালিবাগ, শান্তিনগর, পল্টন ও মতিঝিল এলাকার পানি টিটিপাড়া পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হয়। পুরান ঢাকা, আজিমপুর, গুলিস্তান ও হাজারীবাগ এলাকার পানি ধোলাইখাল হয়ে বুড়িগঙ্গায় পড়ে। গ্রিন রোড ও পান্থপথ এলাকার পানি হাতিরঝিল হয়ে রামপুরা পাম্প স্টেশনে যায়। আর যাত্রাবাড়ী ও ডিএনডি এলাকার কিছু অংশের পানি শিমরাইল পাম্প স্টেশন হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরের জন্য এই চারটি আউটলেট মোটেও যথেষ্ট নয়। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

বাড়ছে তীব্র বৃষ্টিপাত

ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১৯৫৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২ হাজার ১৮ মিলিমিটার হলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্প সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে একদিনে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র তিনবার। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে তিনবার। ফলে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাড়তি চাপ সামলাতে পারছে না।

২৯টি জলাবদ্ধতার হটস্পট

ডিএসসিসির চিহ্নিত জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন, মালিবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, কমলাপুর, পল্টন, ফকিরাপুল, শান্তিবাগ, জুরাইন ও সায়েদাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি এলাকা।

প্রতিবছর এসব এলাকায় পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন ধাপের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় ড্রেন, নর্দমা ও খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ, জরুরি পাম্প ব্যবহার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় খাল পুনরুদ্ধার, নতুন আউটলেট নির্মাণ, ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পাম্প স্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ৮৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কালুনগর, জিরানী, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় ২০ কিলোমিটারের বেশি খাল খনন ও স্লাজ অপসারণের কাজ চলবে।

নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে আরও আটটি নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব আউটলেট চালু হলে নিউমার্কেট, আজিমপুর, গুলিস্তান, ফকিরাপুল, মগবাজার, মালিবাগ ও শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে বলে আশা করছে ডিএসসিসি।

তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে কয়েক হাজার কোটি টাকা এবং দীর্ঘ সময়।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। কয়েক বছর আগে ড্রেন সংস্কারের কাজ হয়েছিল, কিন্তু এখনো সামান্য বৃষ্টিতেই মার্কেট এলাকায় পানি জমে যায়। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়।”

তার মতে, শুধু খোঁড়াখুঁড়ি নয়, স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

স্থায়ী সমাধান কবে?

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী বোরহান উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফলে শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা পাম্প বসিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি জানান, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের অর্থায়ন প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় হলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।

তবে নগরবাসীর প্রশ্ন একটাই—প্রতি বছর একই প্রতিশ্রুতি আর একই খোঁড়াখুঁড়ির পরও রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে মিলবে? বর্ষা এলেই পানির নিচে ডুবে যাওয়া ঢাকা কি আদৌ এই দুর্ভোগের চক্র থেকে বের হতে পারবে?