ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ভোগড়া বাইপাস পার হয়েই ভোট, নিরাপত্তাহীনতায় কমছে আগ্রহ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারদের দীর্ঘদিনের একটি ভোগান্তির নাম ভোগড়া বাইপাস সড়ক। ব্যস্ত এই সড়ক পার হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হয় হাজারো ভোটারকে। কিন্তু নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ ক্রসিংয়ের অভাবে বিশেষ করে বয়স্ক, নারী, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ভোটাররা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া ভোগড়া বাইপাস সড়কটি শিল্পাঞ্চল ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অত্যন্ত ব্যস্ত। দিনরাত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ থাকায় সড়ক পারাপার অনেক সময় জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এ অবস্থায় সড়কের দুই পাশে অবস্থিত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ছয়টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশকে নিজ এলাকার পরিবর্তে সড়কের বিপরীত পাশে অবস্থিত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ভোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৭ জন। ভোগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩৩ জন। এছাড়া উম্মুল কুরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৭৭ জন এবং উম্মুল কুরা হিফজ মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৭৯ জন ভোটার রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের ফলে সমস্যাটি আরও বেড়েছে। আগে সড়কের দক্ষিণ পাশের ভোটাররা দক্ষিণ পাশের কেন্দ্রেই এবং উত্তর পাশের ভোটাররা উত্তর পাশের কেন্দ্রেই ভোট দিতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের পর অনেক ভোটারকে বাইপাস সড়ক পার হয়ে অন্য পাশে গিয়ে ভোট দিতে হচ্ছে।

স্থানীয় ভোটার মো. ইউনুছ আলী বলেন, “সড়ক পার হয়ে ভোট দিতে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে অনেকেই চান না। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে রাস্তা পার হওয়া খুবই কঠিন।”

আরেক ভোটার দিলারা সুলতানা সেতু বলেন, “বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা প্রতিবন্ধীদের জন্য এই রাস্তা পার হওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যান না।”

স্থানীয়দের মতে, ভোটারদের বসবাসের অবস্থান বিবেচনা না করে কেন্দ্র নির্ধারণ করায় ভোটারদের ভোগান্তি বাড়ছে। তারা মনে করেন, ভোটকেন্দ্র পুনর্বিন্যাস অথবা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না করা হলে ভোটদানে অনীহা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে আমরা সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”

কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে এ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল। তবে কী কারণে তা করা হয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করতে হবে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যানও ভোটারদের অনাগ্রহের বিষয়টি ইঙ্গিত করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোগড়া এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটদানের হার ছিল ২৮ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ৪৫ দশমিক ৫৬ শতাংশের মধ্যে, যা তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, ভোটারবান্ধব কেন্দ্র নির্ধারণের পাশাপাশি ভোগড়া বাইপাস সড়কে দ্রুত ফুটওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং অথবা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতেও ঝুঁকি ও ভোগান্তির কারণে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রমুখী হবেন না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি

ভোগড়া বাইপাস পার হয়েই ভোট, নিরাপত্তাহীনতায় কমছে আগ্রহ

আপডেট সময় : ০৩:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারদের দীর্ঘদিনের একটি ভোগান্তির নাম ভোগড়া বাইপাস সড়ক। ব্যস্ত এই সড়ক পার হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হয় হাজারো ভোটারকে। কিন্তু নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ ক্রসিংয়ের অভাবে বিশেষ করে বয়স্ক, নারী, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ভোটাররা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া ভোগড়া বাইপাস সড়কটি শিল্পাঞ্চল ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অত্যন্ত ব্যস্ত। দিনরাত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ থাকায় সড়ক পারাপার অনেক সময় জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এ অবস্থায় সড়কের দুই পাশে অবস্থিত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ছয়টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশকে নিজ এলাকার পরিবর্তে সড়কের বিপরীত পাশে অবস্থিত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ভোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৭ জন। ভোগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩৩ জন। এছাড়া উম্মুল কুরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৭৭ জন এবং উম্মুল কুরা হিফজ মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৭৯ জন ভোটার রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের ফলে সমস্যাটি আরও বেড়েছে। আগে সড়কের দক্ষিণ পাশের ভোটাররা দক্ষিণ পাশের কেন্দ্রেই এবং উত্তর পাশের ভোটাররা উত্তর পাশের কেন্দ্রেই ভোট দিতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের পর অনেক ভোটারকে বাইপাস সড়ক পার হয়ে অন্য পাশে গিয়ে ভোট দিতে হচ্ছে।

স্থানীয় ভোটার মো. ইউনুছ আলী বলেন, “সড়ক পার হয়ে ভোট দিতে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে অনেকেই চান না। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে রাস্তা পার হওয়া খুবই কঠিন।”

আরেক ভোটার দিলারা সুলতানা সেতু বলেন, “বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা প্রতিবন্ধীদের জন্য এই রাস্তা পার হওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যান না।”

স্থানীয়দের মতে, ভোটারদের বসবাসের অবস্থান বিবেচনা না করে কেন্দ্র নির্ধারণ করায় ভোটারদের ভোগান্তি বাড়ছে। তারা মনে করেন, ভোটকেন্দ্র পুনর্বিন্যাস অথবা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না করা হলে ভোটদানে অনীহা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে আমরা সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”

কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে এ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল। তবে কী কারণে তা করা হয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করতে হবে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যানও ভোটারদের অনাগ্রহের বিষয়টি ইঙ্গিত করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোগড়া এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটদানের হার ছিল ২৮ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ৪৫ দশমিক ৫৬ শতাংশের মধ্যে, যা তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, ভোটারবান্ধব কেন্দ্র নির্ধারণের পাশাপাশি ভোগড়া বাইপাস সড়কে দ্রুত ফুটওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং অথবা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতেও ঝুঁকি ও ভোগান্তির কারণে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রমুখী হবেন না।