উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্ট বর্ণবাদী সহিংসতার এক ভয়াবহ রূপ দেখছে। পূর্ব বেলফাস্টের নিউটাউনার্ডস রোডে দাঙ্গাকারীরা একের পর এক ঘরবাড়ি ও গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, যার রেশ এখনো বাতাসে ভাসছে। পুরো সপ্তাহ ধরে এই দাঙ্গা মূলত লয়ালিস্ট প্রোটেস্ট্যান্ট অধ্যুষিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় স্টিফেন ওগিলভি নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে হাদি আলোদিদ নামের এক সুদানিস নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিবাসীদের ঠিকানা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা দাঙ্গার আগুনকে আরও উস্কে দেয়। বর্ণবাদী হামলাকারীরা এরপর বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে প্রাণভয়ে অনেক মুসলিম পরিবার তাদের সন্তানদের শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশীদের কাছে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। হামলায় ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার মতো বিভিন্ন দেশের পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এমনকি রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে বাঁচতে বেলফাস্টে আশ্রয় নেওয়া এক ইউক্রেনীয় নারীও এই ঘটনার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা কালো পোশাকে, মুখ ঢেকে এবং ডোরবেল ক্যামেরা বন্ধ রেখে তাদের নৃশংসতা চালিয়েছে।
এই দাঙ্গায় উলস্টার ভলান্টিয়ার ফোর্স (ইউভিএফ) এবং উলস্টার ডিফেন্স অ্যাসোসিয়েশন (ইউডিএ)-এর মতো লয়ালিস্ট আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির পরেও এই বাহিনীগুলোর প্রভাব শেষ হয়ে যায়নি এবং বর্তমানে তারা অভিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গদের লক্ষ্য করে সহিংসতা চালাচ্ছে। একইসঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উসকানিমূলক প্রচার এই সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ধনকুবের ইলন মাস্কের সমর্থক উগ্র ডানপন্থি টমি রবিনসন এই বিক্ষোভের ডাক দেন এবং ইলন মাস্ক নিজেও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এই বিক্ষোভের প্রচার চালান। ট্র্যাডিশনাল ইউনিয়নিস্ট ভয়েস পার্টির এমপি জিম অ্যালিস্টার এবং রিফর্ম ইউকে-এর নেতা নাইজেল ফারাজের মতো মূলধারার রাজনৈতিক নেতারাও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি সুসংগঠিত বর্ণবাদী প্রচারণার অংশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৯৬ শতাংশেরও বেশি বাসিন্দা শ্বেতাঙ্গ এবং এখানে যুক্তরাজ্যের মোট আশ্রয়প্রার্থীদের মাত্র ১ শতাংশ বাস করেন। তা সত্ত্বেও, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিবাসীদের নিয়মিত অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে, যা এই ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















